বাল্যবিবাহ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি: ব্যারিষ্টার রাগীব চৌধুরী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বাল্যবিবাহ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি: ব্যারিষ্টার রাগীব চৌধুরী 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেছেন, বাল্যবিবাহ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মূল কারণগুলো হলো দারিদ্র্য, কুসংস্কার, নারী শিক্ষার অবহেলা, ইভটিজিং ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা।

গতকাল রবিবার (২ নভেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা মানসিক ও শারীরিকভাবে পরিপক্কতা অর্জন করতে পারে না, যা পরিবারে অশান্তি, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং পুষ্টিহীনতার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

অপরিপক্ক বয়সে মা হওয়ার ফলে শিশুর যথাযথ যত্ন ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী আরও বলেন, শিক্ষার প্রসার, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিয়ে নিবন্ধকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধে নারী শিক্ষার প্রসার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, সমাজ এবং সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহ রোধ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে কিশোরীরা মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি, অপরিণত গর্ভধারণ, প্রসবকালীন জটিলতা, শিশুমৃত্যু এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়। এছাড়া অনেক মেয়ে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। বাল্যবিবাহ নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ায় এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

এই সমস্যা সমাধানে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পরিবার, বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করে কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একটি সচেতন সমাজই পারে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।