বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইবির হলের এক রুমের চার বন্ধুর বাজিমাত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইবির হলের এক রুমের চার বন্ধুর বাজিমাত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৮, ২০২৬

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হলের ২১২ নম্বর কক্ষ। হল চালু হওয়ার পরেই এই কক্ষে একসঙ্গে ওঠেন আইন বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের চার বন্ধু আলমগীর হোসাইন, মেজবা আলম সরকার, শামীম হোসেন ও আশহাদুল ইসলাম। সেই সময় তারা নিজেরাই ওই কক্ষের নাম রেখেছিলেন ‘ল চেম্বার’। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রস্তুতির ফলস্বরূপ এবার তারা একসঙ্গেই সফলতার দেখা পেয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এই চার বন্ধু।

রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবারের ভাইভায় মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই (২১২ নম্বর) কক্ষে বসে পড়াশোনা, গ্রুপ স্টাডি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন তারা। ফলে একসঙ্গে ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও গর্বের আবহ। চার বন্ধুর এই যৌথ অর্জন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে তৈরি করেছে বিশেষ উচ্ছ্বাস। বন্ধুত্ব, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে শহীদ আনাস হলের ২১২ নম্বর কক্ষের এই গল্প।

আলমগীর হোসাইন বলেন, আমরা নিয়মিত পড়াশোনা করতাম এবং প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করতাম। নিজেদের মধ্যে গ্রুপ করে পরীক্ষা নেওয়া ও আইনের কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার অভ্যাস ছিল। অনেক জটিল বিষয় সিনিয়রদের সহায়তায় বুঝে নিতাম। মেজবা আলম সরকার বলেন, শুরুতে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করলেও পরে হলে উঠে ২১২ নম্বর কক্ষেই যাত্রা শুরু হয়। আইন বিভাগের পাশাপাশি কোর্টে যাতায়াত এবং একজন আইনজীবীকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া— সব মিলিয়ে আমাদের লক্ষ্য আরও দৃঢ় হয়। একসঙ্গে থাকার কারণে একজন পড়তে বসলে অন্যরাও উৎসাহ পেতাম, যা আমাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।

শামীম হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে হল চালুর পরই আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ওই কক্ষে উঠি। একই বিভাগের হওয়ায় আমরা যেমন আড্ডা দিয়েছি, তেমনি সময়মতো পড়াশোনাও করেছি। গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে আইনের জটিল বিষয়গুলো সহজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রথমবারেই অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করা।

আশহাদুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই আইনের ছাত্র হিসেবে আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রথমবারেই অ্যাডভোকেটশিপের সনদ পাওয়া। আমাদের ২১২ নম্বর কক্ষটি ছিল সেশনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। আড্ডা, আনন্দ ও পড়াশোনা— সবকিছুই সমানতালে চলতো। শামীম ডিপার্টমেন্টে প্রথম হওয়ায় পড়াশোনার পরিবেশ আরও শক্তিশালী ছিল। হল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসার পরও আমাদের যোগাযোগ অটুট রয়েছে। ফল প্রকাশের পর সবার আগে রুমমেটদের খবর নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, অনার্সের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সার্টিফিকেট তুলে দ্রুত ইন্টিমেশন জমা দেওয়া জরুরি। ইন্টিমেশন জমার পর নির্ধারিত সময় পূর্ণ হলেই পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়া যায়। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বার কাউন্সিলের সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ও প্যাটার্ন বুঝে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। পাশাপাশি আইনের জটিল বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে সিনিয়রদের সহায়তা নেওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন।

তাদের মতে, একজন আইন শিক্ষার্থীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমবারেই অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তীর্ণদের মধ্যে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৪০ জন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া ২০১৬-১৭ ও তার আগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

বিশেষ করে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জনই প্রথমবার অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের নির্ধারিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।