বামনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি প্রভাবশালীদের দখলে
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৮৪ নং বামনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ একর ৩২ শতক জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রায় অর্ধশত বছর ধরে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বামনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি প্রভাবশালীদের দখলে
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১২ মার্চ দুপুরে বামনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত জমি উদ্ধার প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ম্যানেজিং কমিটি এক জরুরী সভা করেন। সভায় বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রিকৃত দিঘা মৌজার ২৬ নং আরএস খতিয়ানে ১৫৬৭ দাগে ১ একর ৩২ শতক জমি যা স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন দখল করে ভোগদখল করছে, যা ইতিপূর্বে অনেক চেষ্টা করেও দখল মুক্ত করতে পারিনাই। তাই গ্রামবাসী ও ম্যানেজিং কমিটি উক্ত দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য একমত পোষণ করেন এবং এই সম্পত্তি উদ্ধার করতে যাবতীয় সহযোগী প্রদান করতে সম্মত হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন বিদ্যালয়ের দখলকৃত সম্পত্তি ফিরে পেতে আমরা এবং প্রধান শিক্ষক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ জানান অতিদ্রুত বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ড ও খারিজ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উক্ত জমি দখলের বিষয়ে গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ৬ ওয়ার্ডের দীঘা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বর দখলদার হাতেম আলী বলেন আমি ২৭/২৮ বছর আগে ওই জমি কিনেছি, ক্রয়সূত্রে আমি ওই জমির মালিক হিসাবে ৩৭ বছর যাবৎ চাষাবাদ করছি।

গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় ১৯৭৭ সালে বামনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে উক্ত জমির মালিক দানপত্র করে দিলেও ওই জমি নিয়ে দখল-বেখলের পক্ষে অনেক আগে থেকেই মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরএস খতিয়ানে বামনগ্রামের আতর আলীর ছেলে আবুল হোসেনের নামে উক্ত জমি রেকর্ড থাকলেও বর্তমান দখলদার হাতেম আলী মেম্বার এত বছর যাবৎ কিভাবে প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে রেখেছে তার কোন সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানান একসময় উক্ত জমি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। তাই দখলদারদের হাত থেকে উক্ত জমি মুক্ত করে আবারও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসাবে ফিরে পেতে চায় এলাকার সচেতনমহল।
