নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো কুষ্টিয়া কলেজ মোড় বা মীর মোশারফ হোসেন সড়ক। যেখানে আমিন ডায়াগনেস্টিক সেন্টার, পপুলার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার, সনো হাপাতাল সহ কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের মত গুরুত্ব পূর্ণ প্রতিষ্টানের অবস্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসেন ঐ সকল বেসরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ চলাকালীন সময়ে ঐ রাস্তা দিয়েই চলাচল করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রতিনিয়ত যানযট লেগেই থাকে। মাঝে মাঝে সেই যানযট দূঃর্বিসহতায় রুপ নেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমিন ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের নেই নিজস্ব কোন গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ঐ প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা রাস্তার ফুটপাতসহ রাস্তা দখল করে তাদের যানবাহন পার্কিং করে রাখেন।
পপুলার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও সনো হাপাতালের নিজস্ব গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। জানা যায়, অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টির কারণে এবং জনগণের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে সদ্য সাবেক পৌর প্রশাসক মোছাঃ শারমিন আখতার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২৩ ডিসেম্বর (সোমবার) মীর মোশাররফ হোসেন রোড সংলগ্ন ২২টি দোকানের অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ বাতিল করা হয়। সেই সাথে গতকাল সোমাবার (৩০ ডিসেম্বর) এর মধ্যে দোকান মালিকদের নিজ খরচে দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যথাসময়ের মধ্যে তা পালন না করলে দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয় ঐ চিঠিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর কর্তৃপক্ষের নোটিশ আমালে নেননি ২২ দোকান মালিকের কেউ। গতকাল সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা থাকলে তা পালন করেনি কোন দোকান মালিক। এ বিষয়ে দোকান মালিকেরা উল্টো পৌর কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করছেন। দোকান মালিকদের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের অসুবিধার কথা চিন্তা না করে হঠাৎ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
তবে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। অন্যদিকে দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্তকরণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন ঐ এলাকার অটোরিক্সা চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। গতকাল সোমাবার (৩০ ডিসেম্বর) এর মধ্যে দোকান মালিকদের দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এই বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকান্ড চোখে পড়েনি। তবে স্থানীয়রা মনে করেন জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত চালু করবে পৌর কর্তৃপক্ষ। ইসলামিয়া ফার্মেসী মালিক শাহাদাত হোসেন বলেন, যুক্তিহীন নোটিশ দিয়েছে পৌরসভ। নোটিশ দেওয়ার নিয়ম হচ্ছে প্রথমে ছয় মাস ভাড়া বন্ধের নোটিশ দিবে। এরপর তিন মাস ভাড়া নেওয়া বন্ধ করে দিবে। তিন মাস পর আবার নোটিশ দিবে। এরপর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা মাধ্যমে আমাদের কোথায় পুনর্বাসন করবে। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত পৌর কর্তৃপক্ষ নিতে পারেনা। সরকারি কলেজ মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন বলেন, এখানে ২২ টি দোকান রয়েছে। সাত দিনের নোটিশ দিয়েছে যে নোটিশে দিয়েছে তা একেবারে অনৈতিক। এটা কখনোই কাম্য নয়।
এখানে লাখ লাখ টাকা মালামাল রয়েছে। কর্মচারী রয়েছে। আমরা সবাই অসহায়, আমাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের এটি একদম কাম্য নয়। অধিকাংশ দোকানদাররা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। অনেক কর্মচারী আছে তাঁরা পথে বসবে। নোটিশ দেওয়ার আগে কোন নিয়মে মানা হয়নি। আগে থেকেই ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়। আমাদের এই মাসের ভাড়াও দেওয়া আছে। হঠাৎ করে নোটিশ দিয়েছে সাত দিনের মধ্যে আমাদের উঠে যেতে হবে। অটোচালক উজ্জ্বল বলেন, এ রাস্তায় অটো চালাতে অনেক কষ্ট হয়। সব সময় যানজট বেধেই থাকে। এই রাস্তাটি পাশ দিয়ে দোকানপাট ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পপুলার ও সনো টাওয়ারের কারনে যানজট বেশি সৃষ্টি হয়। রিক্সাচালক সুরুজ বলেন, কলেজ মোড় এলাকায় অসুস্থ রোগী আনবো সেটির উপায় নাই, দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। রাস্তাটি বড় করা খুবই প্রয়োজন। পথচারী ছবিত হাসান চৌধুরী বলেন, এখনে যানজটের চিত্র দেখে আমি ভুলে যায় এটি শহর না নগর। আমার মনে যানজটের রাজ্যে এটি।হাসপাতাল মোড় থেকে সরকারি কলেজ অতিক্রম করতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় ঘন্টা। এবিষযে জানতে কুষ্টিয়া পৌরসভার সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আজকেই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি, আসলে দেখব।
