দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু হত্যা মামলার তদন্তসূত্রে অভিযুক্ত ‘শ্যুটার শামীম’ (৩০) কে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া সিআইডির তথ্যমতে দৌলতপুর থানা পুলিশের চৌকশ অভিযানিক দল। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর ) সকাল থেকে গোয়েন্দা নজরদারির পর, দুপুরে ফিলিপনগর হাইস্কুল বাজার এলাকাতে দীর্ঘ চার ঘণ্টার সাঁড়াশি নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ আবু তারেক এবং ইনেসপেক্টর (ওসি) মহব্বত আলী।
গ্রেফতারকৃত শামীম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর হাইস্কুলপাড়া মৃত লালচাঁদের মসজিদপাড়া গ্রামের মজিবর দোকানদারের ছেলে। স্থানীয় তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট থেকে জানাগেছে, সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী শ্যুটার শামীম, সন্ত্রাসী গিট্টু সোহাগ ও টুকু বাহিনীর শ্যুটার ও চাঁদাবাজ। সে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী,মাদক কারবারি এবং পেশাদার শ্যুটার কন্টাক কিলার। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন চেয়ারম্যান সেন্টু। এ কারণে “তরিকুল ইসলাম টুকু” বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিনের পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। পরদিন ১ অক্টোবর নিহত চেয়ারম্যানের ছেলে আহসান হাবীব কনক বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় টুকুকে প্রধান আসামি করা হয়।এছাড়া আরও ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ফিলিপনগর এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ”টুকু ও গিট্টু সোহাগ” বাহিনীর সোহাগ ইসলাম ওরফে গিট্টু সোহাগ (২২), রওশন (২৩), রাসেল (২৭), লালন (২৬), নাঈম (২২), রেন্টু গিট্টু (২৩), আল আমিন (২০), হিমেল (২৭) ও ইরাক (৩০)।
এরা অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় নিয়মিত সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সন্ত্রাসী “গিট্টু সোহাগ ও টুকু” বাহিনীর উল্লেখিত সদস্যদের সাথে যোগ দিয়েছে লালচাঁদ বাহিনীর সদস্যরা-নিজাম, লালচাঁদের ছোটভাই সুকচাঁদ ও সুকচাঁদের ছেলে বিপ্লব ও বিমল এবং নাহারুলের ছেলে মামুন,খেড়ুর ছেলে মাঠচরানো রুশমান, আমিরের ছেলে মাঠচরানো আলা, মৃত জামাত প্রামানিকের ছেলে হানা প্রামানিক (অস্ত্র ও মাদক আমদানিকারক) গংরা। এই বাহিনীর প্রানের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সু-শীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ ও সাধারন জনগন অনেকে বলেন, কিছুদিন এই চক্র ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ কান্ডে সহ চাঁদাবাজি, দোকানে দোকানে চাঁদা দাবি, হত্যা মামলার সাক্ষীদের হুমকি, এমনকি পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে গরু মহিষের বাথানের রাখালদের ও কৃষকদের মাঠে নামতে বাধা দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
এছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আসামিরা ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দিনে ও রাতে সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে, এর মধ্যে রাসেল ও রওশনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে বলে একাধিক সূত্রে জানাগেছে।এতে পুরো ফিলিপনগর ও আশপাশের গ্রামবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। টুকু ও তার ভাই সাগরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে স্পষ্ট। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় তরিকুল ইসলাম টুকু ও তার ভাই সাগর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চারা বটতলার নিজ বাড়ি থেকে এসে ফিলিপনগরে অবস্থান করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের সাথে মিটিং করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না, প্রাননাশের ভয়ে। নিহত নঈম উদ্দিন সেন্টু ফিলিপনগর বাজারপাড়ার মুতালিব সরকারের ছেলে।
তিনি সাবেক দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন এবং পরপর দুইবার ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে একবার স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তদন্ত ও গ্রেফতারে অগ্রগতি নিয়মানুযায়ী সিআইডি ও দৌলতপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর শামীমকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তে নতুন গতি এনেছে। বেরিয়ে এসেছে রাঘোব বোয়ালদের নাম, যা দৌলতপুর উপজেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান প্রকৃয়াধীন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে ফিলিপনগরে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
