বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ফকির শামসুল শাহের ৫০তম গুরু-বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পাককোলা এলাকার “আনন্দ ধাম”-এ ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সাধুসঙ্গ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১০ ও ১১ জানুয়ারি ২০২৬ (২৬ ও ২৭ পৌষ ১৪৩২, শনি ও রবিবার) এ উপলক্ষে ভক্ত, সাধু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে আনন্দ ধাম প্রাঙ্গণ। “এসো হে ওপারের কাণ্ডারি”, “আর কি বসব সাধুর সাধ বাজারে”, “হক নাম সহায়” এবং “যারে ভাবলে পাপীর পাপ হরে, দিবানিশি ডাক মন তারে” এই চিরন্তন লালন বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে আয়োজনটি সাজানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় বক্তারা ফকির শামসুল শাহের মানবতাবাদী দর্শন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আত্মজ্ঞান ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, লালনের দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং মানবমুক্তির পথ দেখায়। অনুষ্ঠানটি বিনয়াবনত সেবায়িত ফকির শামসুল শাহ। লালন শাহ কোনো বিশেষ ধর্ম বা গোষ্ঠীর নন—তিনি মানবতার। তাঁর দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।
২৪ ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী তরুন কুমার, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের প্রাক্তন উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক, চট্রগ্রাম থেকে প্রদীপকুমার দত্ত, বিমল কুমার সন্যাসীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল-ফকির, সাধু ও লালন অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই সাধুসঙ্গ লালন দর্শন চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে।
