রঞ্জুউর রহমান ॥ গতকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল দশটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নির্বাহী পরিচালক তুলা উন্নয়ন বোর্ড ড. মো: ফখরে আলম ইবনে তাবিব এর সভাপতিত্বে তামাকের পরিবর্তে তুলাচাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক কর্মশালা ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উৎপরিচালক তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর অঞ্চল ড. কামরুল হাসান, উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া সুফি মোঃ রফিকুজ্জামান, জেলা বিভিন্ন স্থান থেকে আগত তুলা চাষী এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। উপস্থিত বক্তারা বলেন, তামাক জনস্বাস্থ্য, সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যেখানে একই অর্থ বছরে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। দেশে লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়। অন্যদিকে তুলার চাষ হয় মাত্র ২০ থেকে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রতি বছর গার্মেন্টস পণ্য তৈরি করতে ৯ বিলিয়ন বেল তুলার প্রয়োজন হয়। এই তুলার মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয় আর বাকি তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ক্ষতিকারক তামাক উৎপাদন কমিয়ে তুলার উৎপাদন বাড়ালে দেশ অর্থনীতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।তামাক চাষের জমিতে তুলা চাষ করা গেলে তা দেশ ও সরকারের জন্য লাভজনক এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে ৭৫ হেক্টর এবং ২০৩০ সালে মধ্যে ১ লক্ষ জমিতে তুলা চাষের আওতায় আনতে হবে। বর্তমানে দেশে ২.৫ মিলিয়ন কটনের চাহিদা রয়েছে আর মোট চাহিদার ১.৫ শতাংশ যোগান দিতে পারি বাকি পুরোটাই আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সেদিকের বিবেচনায় তুলা চাষের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি এছাড়াও তুলার বীজ থেকে ভোজ্য তেল এবং গবাদি পশু পাখির খাদ্য উৎপাদন হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জেলার সকল চড় জমি কৃষির আওতায় আনতে হবে এবং কৃষি কাজে যেন কোন বিঘ্ন না হয় ও কৃষি প্রণোদনা কৃষকের কাছে সহজে পৌঁছে যায় এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না হয়।সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
