প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবহার করতে হবে: ডিসি এহেতেশাম রেজা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবহার করতে হবে: ডিসি এহেতেশাম রেজা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৪

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের দিশা অডিটরিয়ামে ”নির্মল পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়তে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মেডিকেল বর্জ্য ব্যস্থাপনার সদস্য সচিব জয়নুল আবেদীন’র সভপাতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা।

প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবহার করতে হবে: ডিসি এহেতেশাম রেজা

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তারেক জুবায়ের, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মো. রফিকুল ইসলাম, প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনিসুর রহমান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোনিয়া কাওকাবি এবং কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডাঃ আমিনুল হক রতন। আলোচনা কালে বক্তারা বলেন, মেডিকেল বর্জ্যের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পরিবেশের উপর সৃষ্টি হচ্ছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ঢাকা শহরে আনুমানিক ১২’শ এর অধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ টন চিকিৎসা বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে প্রায় ১৫ টন ক্ষতিকারক বর্জ্য। প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উৎপাদিত এসকল ক্ষতিকারক বর্জ্যের কারণে শহরের জনজীবন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে ঢাকা সিটি করপোরেশন-এর দুইটি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নং ৪৯ ও ৫৭) পরীক্ষামূলকভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে সফলতার সাথে সম্পন্ন হওয়ার পর ২০০৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে সমগ্র ঢাকা মহানগরীতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করা। এই কর্মসূচীর অধীনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণা চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা-২০ স্বাস্থ্য সংস্থা-এর বিধিমালার মৌলিক বিষয়সমূহ অনুসরণ করে উপায়ে সুষ্ঠুভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য সমূহ আলোকপাত করেন। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো: স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যন্তরে বর্জ্য সৃষ্টির উৎপত্তিস্থলেই বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রঙের পাত্রে বর্জ্য পৃথকীকরণ পদ্ধতির প্রচলন। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যন্তরে বর্জ্য স্পর্শকালীন নিরাপত্তা গ্রহণ, নিরাপদ বর্জ্য সংগ্রহ ও সাময়িক সংরণের মাধ্যমে রোগী ও দর্শনার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে নিরাপদ বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন নিশ্চিতকরণ এবং তাদের উক্ত কাজের সহায়ক উপকরণ (বিশেষ ধরনের পলি ব্যাগ, কাভার্ড ভ্যান, নিরাপত্তাজনিত পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম) সরবরাহ করা। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরাপদ বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন পদ্ধতি প্রচলনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হ্রাসকরণ। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসম্মত এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও উপযোগী কেন্দ্রীয় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন এবং দ ও প্রশিতি কর্মীর মাধ্যমে উন্নত কারিগরি সহায়তায় মেডিকেল বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা। তিকারক বর্জ্য চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনার পর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে অপসারণ নিশ্চিতকরণ। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানব তথা প্রাণীকূলের জন্য তিকারক ও সংক্রামক বর্জ্যের কারণে সংগঠিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসকরণ। সেমিনারে বক্তব্য প্রদান কালে জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজা বলেন, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্জ্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্ত থেকে আজকের দিন পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী ৪.৫ ট্রিলিয়ন টন বর্জ্য আমরা বিভিন্নভাবে উৎপাদন করি। বাংলাদেশের প্রোপটে হাসপাতালের প্রতিটা বেডে প্রতিদিন ১.৬৬ থেকে ১.৯৯: কেজি বর্জ্য প্রতিদিন উৎপাদন করি। এজন্য প্রিজম বাংলাদেশ এবং সরকারকে করে এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন চায়না ও তুরস্ক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা হয় তাতে হবে আমাদের অনেক জনবল প্রয়োজন হবে না এবং সময়ও বেঁচে যাবে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন চায়নাতে এর বহুল ব্যবহার হচ্ছে এতে কম খরচে খুব  সহজে কাজ করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবহার করতে হবে। তাহলে অটোমেটিক ভাবে খুব সহজে কাজ করা যাবে। সরকারি ও বে-সরকারি কিনিককেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং অবশ্যই আমাদের টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে শুধু জনবল দিয়ে এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে না। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাজার আওয়তায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।