কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের চাড়লিয়া গ্রামের ছোট্ট একটি হাট। গ্রামের হাটে মানুষ কেনাবেচা করছেন। হঠাৎ সেখানে কয়েকটি গাড়ি এল। গাড়িবহরের পেছনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান। সামনের গাড়ি থেকে নামলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। হাটে বসে থাকা বিক্রেতাদের হাতে হাত মেলাচ্ছেন ইনু।

নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ের জাসদের কয়েকজন নেতা ছিলেন। ছিলেন তালবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম। তবে ১৪ দলীয় জোটের এই প্রার্থী প্রচারণার শুরু থেকেই পাশে পাননি মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের।
বৃহস্পতিবার প্রচারণার শেষ দিনেও পেলেন না। এ বিষয়ে ওই হাটে বসে হাসানুল হক ইনু বলেন, ১৫ বছর ধরে টানা তিনি এ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এ সময় দুই উপজেলায় যে উন্নয়ন তিনি করেছেন, তাতে জনগণ অবশ্যই তাঁর মূল্যায়ন করবেন। তাঁকে ভোট দেবেন। কিন্তু ভোটের মাঠে জোটের শীর্ষ দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশে পেলেন না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে হাসানুল ইনু বললেন, ‘আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে।
বাকি সেই দলের কে এল, কে এল না, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না।’ আওয়ামী লীগের নেতাদের না আসার বিষয়টি ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে কি না-জানতে চাইলে ইনু বলেন, ‘একজন নেতা যদি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে তো ক্ষতিগ্রস্ত হলাম-এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী যাঁরা, তাঁরা আমাকে নৌকায় ভোট দেবেন। তাঁরা শেখ হাসিনার সাথে বেইমানি করবেন না।’ এতে জোটের ঐক্যে ফাটল ধরার আশঙ্কা আছে কি না-এমন প্রশ্নে ইনু বলেন, ‘ঐক্যে ফাটল ধরার আশঙ্কা নেই। কতিপয় নেতা স্বার্থের কারণে খন্দকার মোশতাকের মতো এদিক ওদিক করে। খন্দকার মোশতাক তো দেশ শাসন করে না। রাজনীতি নিয়ন্ত্রণও করে না। গ্রামে আওয়ামী লীগের প্রচুর সাধারণ কর্মী উৎসাহের সঙ্গে নৌকার প্রতীকের পক্ষেই সোচ্চার আছে।’ ভোটের দিন কিছু শঙ্কা রয়েছে জানিয়ে ইনু এবারও নৌকা প্রতীকে জয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে প্রশাসনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে বলে জানান। চাড়লিয়া গ্রামের ছোট্ট ওই হাটে আধা ঘণ্টা থাকার পর মিরপুর হয়ে হাসানুল হক ইনু আবার ভেড়ামারার নিজ বাড়িতে যান।
ইনুর বহরে থাকা পান্না মিয়া জানালেন, বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে তিনি ভেড়ামারা গোলাপনগরের নিজ বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ছয়টায় ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী শেষ জনসভা করেছেন ইনু। হাটের একটি চায়ের দোকানে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় চাড়ুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের। গায়ের চাদর দেখিয়ে বললেন, এটা ‘ইনু শাল’। একসময় এ ধরনের চাদর গায়ে দিয়ে ভোট করেছেন। তিনি আর রাজনীতি করেন না। কিন্তু এবারের ভোট দেখে তিনি আভাস দিলেন, ‘কামারুলের অবস্থান বেশ শক্ত।’ অপর দিকে বিকেলে ভেড়ামারা শহরে বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেন ইনুর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। সেখানে দুই উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
