আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র নির্বাচনী পোষ্টার ছিড়ে ফেলা সহ অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে কুমারখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম রফিক সহ আরো তিন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ।

জানা যায়, সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার সময় কুমারখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কুন্ডপাড়ায় ফরিদ কাউন্সিলরের বাড়ী সামনে বসে ছিলেন, সেই সময় পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম রফিকের নেতৃত্বে একটি জিপগাড়ীতে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহীন, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহাবুবুল আলম বাবু ও ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার আলী হিরো কাউন্সিলর ঘটনা স্থলে এসে উপস্থিত হয়। এরপর অস্ত্র হাতে এস এম রফিক কাউন্সিলর, শাহীন কাউন্সিলর এবং মাহাবুবুল আলম বাবু কাউন্সিলর গাড়ী থেকে নেমে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কুন্ডপাড়ার মৃত কার্ত্তিক চক্রবর্তীর পুত্র বাবলু চক্রবর্তী, খাইরুল আলমের পুত্র রিমন এবং আব্দুল লতিফের পুত্র রতনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলে ”তোদের বেশী বাড় বেড়েছে, তোদের এত সাহস হয় কিভাবে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করিস, বেশী বাড়াবাড়ি করলে তোদের জানে মেরে ফেলবো”।
এর কিছুক্ষ পর কুমারখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ বাড়ী থেকে বেরিয়ে এসে তার বাড়ীর সামনে থেকে সবাই চলে যাওয়ার জন্য বলে এবং কিছুক্ষণ পর ঘটণাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহীন, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম বাবু ও ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার আলী হিরো আশে পাশের এলাকায় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র ট্রাক প্রতীকের পোষ্টার ছিড়ে রেখে যায়।
এই বিষয়ে বাবলু চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি দৈনিক খবরওয়ালার প্রতিবেদককে জানান, আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সহ নায্য বিচার দাবী করি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কুমারখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম রফিকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা ঐ এলাকায় আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অফিসে গিয়েছিলাম। তবে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র পোষ্টার ছিড়ি নাই বা কাইকে হুমকি দেই নাই।
তবে এই বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
এই বিষয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আকিবুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আপনারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেন।
এই বিষয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হক’র মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমরা ঘটণাস্থলে গিয়েছিলাম তবে উনারা সুস্পষ্টভাবে কোন কিছু দেখাতে পারেনি। উনাদেরকে অভিযোগ দিতে বলেছি, অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।
