পোড়াদহের মাদকসম্রাট ও সুদের কারবারী যুবলীগ নেতা লিটু র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পোড়াদহের মাদকসম্রাট ও সুদের কারবারী যুবলীগ নেতা লিটু র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে সদর থানার আইলচারা ইউনিয়ন থেকে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহার নামীয় আসামি মোঃ ইমরান খান লিটু(৩৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি কুষ্টিয়া সদর থানারআইলচারা গ্রামের আবু তালেব’র ছেলে। র‌্যাব সূত্র জানায়, গত ০৪ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া এলাকায় শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় দুষ্কৃতিকারীদের দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোঃ আশরাফুল আলম (৩৮) গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প অভিযান পরিচালনা করে গতকাল সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় উক্ত মামলার এজাহার নামীয় ২৪নং পলাতক আসামি ও আইলচারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমরান খান লিটুকে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানাধীন আইলচারা বাজার হতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এলাকায় খোঁজ নিয়ে ইমরান খান লিটু সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পোড়াদহে দেশের বৃহৎ কাপড়ের হাটের পাশাপাশি মাদকের হাটর জমজমাট।

সেই মাদকের হাটের অলিখিত সম্রাট ইমরান খান লিটু পোড়াদাহর বড় আইলচারার আবু তালেব এরছেলে ইমরান খান লিটু। এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। এলাকার বখাটে তরুণদের নিয়ে গড়ে তোলা এব ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। সুদের টাকা আদায়ের জন্য তার নিজস্ব টর্চার সেলে অনেককে ঢেকে এনে শারীরিক নির্যাতনসহ জমি-জমা লিখে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় কোলহপূর্ণ জমি নিজের নামে বায়নানামা করে তা দখলে নিয়ে উচ্চদামে বিক্রি করে দেওয়ার সত্যতার তার বিরুদ্ধে গাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া জেলায় ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, ফেন্সিডিল এর অন্যতম বড় ডিলার। সে টাকা ছাড়াই মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক বিক্রির পর লাভের অর্থেক অংশসহ মূল টাকা নেয়, অণ্যের মাধ্যমে মাদক প্রদান এবং বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি দরে মাদক বিক্রি কাজ। একই সঙ্গে সোনা বা জমিয় দলিল রেখে চড়া সুদে মানুষকে ঋণ দিয়ে থাকে এই লিটু পোড়াদহের কাটাদহ ও আইলচারা এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে যে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছে। তার স্ত্রীর বড় ভাই চিথলিয়া গ্রামের জাহিদ ইতিপূর্বে মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল।

তার একটি পেটুয়া বাহিনী রয়েছে। এই পেটুয়া বাহিনীর সদস্যরা মাদকদ্রব্য বিক্রির পাশাপাশি ছিনতাই ও মারামারির সাথেও জড়িত। ২০২২ সালে মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয় চিথলিয়া গ্রামের আরিফ। একই বছর আইলচারা বিলের মাঠে ইজিবাইকের গতিরোধ করে লিটুর অনুসারী মানিক, আরিফ, সামাদ, ফরহাদ, রাব্বি ও স্বাধীনসহ কয়েকজন একটি মেয়ের স্বর্ণের আংটি, চেইন, দুল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় খবর পেয়ে ছিনতাইকারীদের ধরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে আনে। যেখানে ডিবি পুলিশ এসে ছিনতাইকারীদের পকেট থেকে ছিনতাই হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে এবং তাদের কয়েকজনকে আটক করে।২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে পোড়াদহ তেঁতুল তলা এলাকায় ফিরোজ নামের এক ছেলের স্বর্ণের চেন ছিনতাই করে লিটুর ক্যাডার ফরহাদ। তাছাড়াও২২ সালের আগস্ট মাসের লিটুর চাচাতো ভাই ভুট্টো ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। এর আগেও ভুট্টোএকাধিকবার মাদকসহ প্রশাসনের হাতে আটক হয়েছিল।

জানা যায়, লিটু ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের প্রথমে ছোট ছোট করে লোন দিয়ে থাবেন। লোন দেওয়ার সময় সে তাদের থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ষ্ট্যাম্প করে নেয়। আর যখন তারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তখন লিটুর চর্টার সেলে তাকে ধরে আনা হতো। এরপর তার জীবনে নেমে আসে আমাবস্যার অন্ধকার। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে। লিটুরচর্টার সেলে সেলে এমন কিছু মানুষকে চর্টার করেছে যারা দোতলার উপর টর্চার সেলের জানালা দিয়ে লাফ মেয়ে পালিয়ে বেঁচেছে। ২০২২ সালে পোড়াদহ এলাকার জন পার্কের পিছনে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে যে আরিফ আটিক হয়েছিল যেই আরিফ ছিলো লিটুর ম্যানেজার। ঐ খানেই লিটুর মাদক রাখার গোডাউন।লিটুর চাচতো দুলাভাই আনোয়ারের ছেলে মানিক, এক, পোড়াদহ হল পাড়ার রাব্বি, চাচতো ভাই ফরহাদ, সামাদ, আরিফ, হালপাতাল মার্কেটের ভিতরে কিতাব মহলের গলিতে মোবাইল সার্ভিসিং দোকানের আশিফ এরা সকলেই লিটুর বিশ্বস্ত সহযোগী। এরা সকলেই মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। পোড়াদহ এলাকায় এক সময় কিরণ মৃধা একজন বড় ব্যবসায়ীকেসুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময় কয়েক লাখ টাকা তাকে সুদে ধায়ে দেয় লিটু। এই সুদের টাকাসহ মূল টাকা একসময় বেড়ে কোটি টাকার উপরে চলে যায়। তখন লিটুর অনুসারীরা তাকে ধরে এনে তার সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি লিটুর নামে জোর করে লিখে নেয়। এই সিন্টু এখন অনের সম্পদের মালিক। যে ৭০ লক্ষ টাকা দামের হেরিয়ার গাড়িতে চড়ে। লিটুর ব্যক্তিগত পিস্তলও রয়েছে বলে  অভিযোগ রয়েছে।