পৃথিবীর সব থেকে বড় সম্পদ মানব সম্পদ: প্রকৌশলী জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পৃথিবীর সব থেকে বড় সম্পদ মানব সম্পদ: প্রকৌশলী জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রনজিতপুরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-বিচিত্রানুষ্ঠান ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রনজিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড এসএসসি ভোকেশনাল এবং সমাজ উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু ও আলমগীর হোসেন, উজানগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক আঃ রউফ, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি প্রভাষক আব্দুল মজিদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন।

এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, পৃথিবীর সব থেকে বড় সম্পদ মানব সম্পদ। এটা গড়তে হয়। যে জাতি যত তাড়াতাড়ি তার হিউম্যান রিসোর্স করতে পারবে, সে জাতি তত তাড়াতাড়ি উন্নত হবে। আমাদের ছেলে মেয়েকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে সঠিকভাবে যদি গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমাদের কোন লাভ নেই। আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন কুষ্টিয়ায় একটি সামাজিক সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া’ গ্রিণ কুষ্টিয়া” শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছে।

শহরটাকে সবুজায়ন করতে বৃক্ষ রোপণ করছে এবং তার পরিচর্যাও করছে সংগঠনের সদস্যরা। এটা কিন্তু আমরা গত এক বছর যাবৎ চেষ্টা করছি। তবে শুধু একটি সংগঠন দ্বারা পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়ন করা কষ্টদায়ক। পাশাপাশি সকলকে এতে অংশ নিতে হবে। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং যে গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, তার জন্য বাড়ির আঙিনা বা আশেপাশে গাছের চারা রোপন করে যত্ন নিতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার রাখতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শুধুমাত্র মানসিকতা দরকার, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কুষ্টিয়া সদর উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়ন করতে পারবো।

এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে সু-নাম অর্জন করেছে। তোমরাও নিজেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করলে একদিন উচ্চ পর্যায়ে পৌছে যাবে। শিক্ষামূলক কোন কাজই ছোট না। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনিভাবে নিজের এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধুমাত্র বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীর মানসিক, শারীরিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তোমরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মেধা, পরিশ্রম এবং সৎ চরিত্রই একদিন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, সমাজের ভালো কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করো,  নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো। এই বিদ্যালয় থেকে আগামী দিনে মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করবে। তোমাদের সাফল্যই আমাদের গর্ব।

এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বিচিত্রানুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করতে পারায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্পসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দঘন পরিবেশ সকলকে মুগ্ধ করে। এছাড়া ‘বিচিত্রা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।