পুনরায় ভোট গ্রহনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পুনরায় ভোট গ্রহনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১১, ২০২৪

কুষ্টিয়া-৩ আসনে ভোট কারচুপি, ভোট পরবর্তী সহিংসতা বন্ধ এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কুষ্টিয়ার মেয়র পুত্র পারভেজ আনোয়ার তণুর সমর্থকরা।

পুনরায় ভোট গ্রহনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

বুধবার দুপুরে শহরের কালেক্টরেট চত্বরের সামনে বিপুল পরিমান মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তণুর বাবা কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ৫ বারের পৌর মেয়র প্রবীণ রাজনীতিক আনোয়ার আলীসহ অন্যরা।

মানববন্ধনে আনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি দলের লোকদের মনোনয়ন দিলেন, আবার দলের অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বললেন। এতে দল দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এর দায় কে নেবে? আপনাকেই নিতে হবে। মেয়র বলেন, আপনি যখন প্রথম কুষ্টিয়াতে এসেছিলেন, সেদিন আপনার পাশে মাত্র ৫ জন ছিলেন। আর সবাই আপনার বিরুদ্ধে ছিলেন। সেদিন আমি আপনার পাশে ছিলাম। আজও আপনার পাশেই আছি, আপনার রাজনীতি করি। আশি উর্দ্ধ বয়সি আনোয়ার আলী বলেন, কুষ্টিয়ায় নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এখানে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মাহবুবউল আলম হানিফ নির্বাচিত হওয়ার পর তার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী তণুর লোকদের ওপর যে নির্যাতন শুরু করেছে তা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। মাননীয় নেত্রী আপনাকে এটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। আপনার কাছে অনুরোধ, এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেবেন। এ সময় ‘ভোট চোর, ভোট চোর, হানিফ ভাই ভোট চোর’ বলে শ্লোগান দেন মানববন্ধনে যোগ দেওয়া কয়েক হাজার মানুষ। মাহবুবউল আলম হানিফ এবারের নির্বাচন নিয়ে পরপর তিনবার কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হলেন। তাকে নিয়ে দলের একাংশের ভিতরে অসন্তুষ্টি থাকলেও এর আগে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার এহেতেশাম রেজার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভোটের আগের সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীর ক্যাডাররা স্বদলবলে প্রতিটি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে মহড়া দেয়। তণুর পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেয়া শুরু করে। ওই রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তণুর ঈগল প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। ভোটের দিন সকাল ৯টার মধ্যে ৫২টি কেন্দ্র থেকে তণু পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। বেলা ১১টার মধ্যে প্রায় ৭০টি কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়। কুষ্টিয়া শহরের কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের মহিলা পোলিং এজেন্টটের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মন্ডল পোলিং এজেন্টদের বের করে দেন। আব্দালপুর ইউনিয়নের হাসানবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোলিং এজেন্টকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। এছাড়াও বিষ্ণুদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জিয়ারখী, ঝাউদিয়া, বটতৈল, আলামপুর, হরিনারায়নপুর, গোস্বামী দূর্গাপুর, মনোহরদিয়া, পাটিকাবাড়ি ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা অর্ন্তগত শতাধিক কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটতে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে সবচেয়ে ঝামেলাপূর্ণ ২১টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বরাবর ভোট স্থগিত করার লিখিত আবেদন পাঠায়। মাত্র ২টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার আবেদন গ্রহণ করেন, কিন্তু বাকিরা কেউ আবেদন গ্রহণ করেন নাই। মিনিটে মিনিটে আরো অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের খবর আসতে থাকে। দুপুর একটার মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র বাদে অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখলে নেয় প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মাহাবুবউল আলম হানিফের কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর দেড়টা থেকে খবর আসতে থাকে তণুর পোলিং এজেন্ট শুন্য করে প্রশাসনের সহায়তায় নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। স্মারকলিপিতে তণু দাবি করেন, মোবাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সহায়তা পায়নি। কোন উপায়ন্ত না পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়ার মাধ্যমে আবেদন জানাই কুষ্টিয়া-৩ আসনের ভোট স্থগিত করার। অভিযোগ উল্লেখ করে সদর আসনের ভোট স্থগিতের জন্য লোক মারফত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদনপত্র প্রেরণ করি। কিন্তু তাঁর কার্যালয় থেকে আবেদন গ্রহণ করে নাই। উল্লেখ্য বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমি নিজে ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানতে পারি দুপুর একটা পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পোল হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রে কোন ভোটার না থাকলেও মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘন্টায় অস্বাভাবিকভাবে আরো ৩০ শতাংশ ভোট পোল দেখানো হয়। যা কোনভাবেই বিশ^াস যোগ্য না। তিনি স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করেন, ভোটে কারচুপি করে জয়লাভের পর ওই রাত থেকেই তণুর কর্মী-সমর্থকদের ওপর শুরু হয়েছে হামলা ও বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট। ওই রাতেই পৌর ১৬ নং ওয়ার্ডের কুমারগাড়া এলাকায় তার সমর্থক রজব আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর সারাশরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে নৌকার সমর্থক স্থানীয় কাউন্সিলর এজাজ আহমেদের ক্যাডাররা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ক্যাডার ধারালো অস্ত্র নিয়ে রজব আলীর ওপর হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাঁর সারাশরীর কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রজব আলীর হতের দশটি আঙ্গুল, বুক, পিঠ, দুই পা’সহ সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তাঁকে বাঁচাতে ভাতিজা বেলাল হোসেন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তার মাথায়ও কোপ দেয়। এতে বেলালের মাথায় ছয়টি সেলাই দেয়া লেগেছে। ভোটের পরের দিন সোমবার সকালে সদর উপজেলার গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে একাধিক বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। প্রায় ২০/২৫ জন ক্যাডার স্থানীয় খালেক, খেদ আলী, বানাত মালিথা ও সেন্টুর বাড়িতে এ হামলা চালায়। মঙ্গলবার সকালে মনোহারদিয়া ইউনিয়নে আমার নির্বাচনী এজেন্ট মান্নান তালুকদারকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার তার কর্মী-সমর্থকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হানিফের ক্যাডাররা খুঁজে বেড়াচ্ছে। এলাকায় পাওয়া গেলেই তাদের ব্যবস্থা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যেশ্যে স্মারকলিপিতে তণু বলেন, আপনার আশ^াসে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকার চেষ্টা করেছি। বিনিময়ে আজ আমার কর্মী-সমর্থকদের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। ‘সকল কেন্দ্র নিরাপদ থাকবে’ আপনার এমন আশ্বাসে আমাদের পোলিং এজেন্ট ও সেন্টারের-অর্ডিনেটরদের বলেছিলাম যে তারা নিরাপদ থাকবে। আপনার কথার কারনে আমার অনেক ভাই-বোন যারা আমার পোলিং এজেন্ট অথবা সমর্থক হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিল আজ তাদের অনেকেই হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর শয্যায়। অথবা কেউ বাড়ি ঘর হারিয়েছে। অনেকেই পরিবার ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি এধরণে ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচন আশা করিনি। আমি অবিলম্বে সংসদীয় আসন-৭৭ কুষ্টিয়া-০৩ আসনে পুনরায় ভোট গ্রহণের জোর দাবী জানাচ্ছি।