দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামীমের (৬৫) আস্তানায় হামলা ও হত্যা মামলায় এক স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর লাটপাড়া এলাকা থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নেয়া হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে গ্রেফতার শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘রাতে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও সেখানে ছিল।
তাই বলে তাকে আসামি করা হবে কেন? এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এলে তাকে না পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে উঠে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে।
জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়। রোজিনা খাতুন আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে দরবারে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এর আগে একই মামলায় রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ভবনের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার তিন দিন পর, ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
