পাকশীতে করুণ পদ্মা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের বেশির ভাগ পিলারই চরে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পাকশীতে করুণ পদ্মা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের বেশির ভাগ পিলারই চরে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৩, ২০২৪

পাকশীতে পদ্মার অবস্থা খুবই করুণ। পানি নেই। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে বেশির ভাগই শুকনো চরে দাঁড়িয়ে আছে। যেসব পিলার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ শুরু করেছে। নদীতে মাছ নেই। জেলেরা নৌকা দিয়ে জাল টেনে নিজেদের খাবারের মাছও জোগাড় করতে পারছে না।

পাকশীতে করুণ পদ্মা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের বেশির ভাগ পিলারই চরে

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এত নিচে নেমে গেছে যে, এভাবে চললে ১০ বছর পর এ অঞ্চলে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’ পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, পদ্মায় এবারের প্রবাহ অনেক কম। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ছিল ৯৩ হাজার ৬৪৮ কিউসেক এবং ওয়াটার লেভেল ছিল ৬.৫২ মিটার। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পানির প্রবাহ ৮০ হাজার ৫৩৬ কিউসেক এবং ওয়াটার লেভেল ৫.৬১ মিটার। গত বছরের তুলনায় পানির প্রবাহ কমেছে ১৩ হাজার ১১২ কিউসেক এবং ওয়াটার লেভেল কমেছে দশমিক ৯ মিটার। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা-পদ্মা নদীতে পানি বণ্টনচুক্তি অনুযায়ী পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পানি পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ও ২ জানুয়ারি দুদিন হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার হাজার ফুট উজানে প্রতিনিধি দল পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করে। পহেলা জানুয়ারি পানি পরিমাপ করা হয় ৭৫ হাজার ৪০৯ কিউসেক ও ২ জানুয়ারি ছিল ৭২ হাজার ৯৬৯ কিউসেক। অথচ ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ঐ সময়ে পদ্মায় পানিপ্রবাহের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। পাবনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক হাইড্রোলজি বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেআরসি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাপ করা হয় ৭৮ হাজার ২৪৪ কিউসেক, ২০২২ সালে ১ জানুয়ারি পানি পরিমাপ করা হয় ১ লাখ ১৮ হাজার ০২০ কিউসেক, ২০২৩ সালে পানির পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৭৩০ কিউসেক ও ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পানির পরিমাপ করা হয় ৭৫ হাজার ৪০৯ কিউসেক। ভারত ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টনচুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছরই গঙ্গা ও পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে পানির স্তর পরিমাপ করেন। উভয় দেশের পানির প্রবাহের যৌথ পর্যবেক্ষণ চলবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। পানি বণ্টনচুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম। এ সময়টিতে উভয় দেশেই পানি সংকটে থাকে। তাই প্রতি ১০ দিনের হিসাবের ভিত্তিতে ফারাক্কায় পানির প্রবাহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বণ্টিত হয়ে থাকে। জানা গেছে, ভারতের পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ দলে রয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অঙ্কিত দুদেজা ও সহকারী পরিচালক মুকেশ কুমার শর্মা। ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে সহযোগিতা করছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড আঞ্চলিক হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, উপসহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেনসহ পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। উপসহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, ভারতীয় পানি পর্যবেক্ষক দলের দুই প্রতিনিধি দল ১ জানুয়ারি ও ২ জানুয়ারি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করেছেন। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত যৌথভাবে পানি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানিপ্রবাহ পরিমাপ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।