ঝিনাইদহ প্রতিনিধি \\ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় লাভের আশায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন চাষিরা। ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা লোকসানের ভয়ে মাঠ থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা দেশের অন্যতম বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা। এবার উপজেলায় ৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৮ মার্চ) দুপুরে আউশিয়া মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা কম পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছেন। মাঠে বসেই নারী কর্মীরা পেঁয়াজ পরিষ্কার করছেন। আলাপকালে আউশিয়া গ্রামের চাষি জাবেদ মন্ডল জানান, গত মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদে তাঁর অনেক লোকসান হয়েছে। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় মৌসুমের আগেই তিনি পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। একটু কম পরিপক্ব হলেও তিনি প্রতিমণ পেঁয়াজ ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন, যা থেকে তিনি এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন। আউশিয়া মাঠের অপর চাষি আলম বিশ্বাস জানান, এবারই প্রথম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই চাষিদের পেঁয়াজ কিনছেন। লাভের আশায় কৃষকরা অপরিপক্ব পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এখন যে পেঁয়াজ কাঠাপ্রতি ২ মণ হচ্ছে, এক মাস পর তা পরিপক্ব হলে কাঠাপ্রতি ৪ মণ উৎপাদন হতো। তবে বেশি দাম পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে না বলে চাষিদের ধারণা। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানান, পেঁয়াজের দামের কারণে এবার চাষিরা মৌসুমের আগেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। তবে অপরিপক্ব পেঁয়াজ বিক্রি করা চাষিদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এ কারণে উপজেলায় পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করছেন তিনি।
