ইবি প্রতিনিধি ॥ পবিত্র মাহে রমজান মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিন হলের খাবারের মান উন্নয়ন, ইবাদত ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার্থে পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। হলগুলো হলো— শাহ আজিজুর রহমান, শহিদ জিয়াউর রহমান হল ও সাদ্দাম হল। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হল গুলোর প্রোভোস্ট বরাবর সংগঠনটির নেতাকর্মী কর্তৃক প্রদত্ত তিন পৃথক স্মারকলিপিতে এ তথ্য জানা যায়। স্মারকলিপিতে শাহ আজিজুর রহমান হলের নেতাকর্মীরা বলেন, রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলসমূহে ডাইনিং এর খাবারের মান উন্নত হলেও আমাদের হলে স্বাদ, গুণগতমান ভালো নয়।
মাঝেমধ্যে বাসি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ওয়াশরুম ও টয়লেটসমূহ নিয়মিত ও পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তাছাড়া, ছুটির সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করায় হলে নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা দিয়েছি। অতিদ্রুত, খাবারের মান উন্নত ও নিয়মিত তদারকি, ওয়াশরুম ও টয়লেটসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার এবং রমজান ও ছুটিকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার নিশ্চিত করতে হবে। এক পৃথক স্মারকলিপিতে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের নেতাকর্মীরা বলেন, জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হলটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নানা দিক থেকে বঞ্চিত অবস্থায় ছিল।
এখনও হলটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে, যা রমজান মাস ও ক্যাম্পাস ছুটির সময় আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এসময় আজিজুর রহমান হলের মতো করেই সমস্যাগুলো উল্লেখ করে অতিদ্রুত হলের খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি ওয়াশরুম ও টয়লেটসমূহ নিয়মিত ও পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার করা, গেট, প্রহরা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান তারা। একইসাথে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের লক্ষ্যে সম্মিলিত একটি ইফতার আয়োজন করার এক ভিন্ন দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, আরেক স্মারকলিপিতে সাদ্দাম হোসেন হলের নেতাকর্মীরা বলেন, সাদ্দাম হোসেন হলটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নানা দিক থেকে বঞ্চিত অবস্থায় ছিল। আমরা দীর্ঘদিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছি, যা রমজান মাস ও ক্যাম্পাস ছুটির সময় আরও বেড়ে উঠেছে।
এসময় তারা বাকি হলগুলোর মতো করে অতিদ্রুত হলের খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি, ওয়াশরুম ও টয়লেটসমূহ নিয়মিত ও পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার করা, গেট, প্রহরা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান। একইসাথে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সমস্যা, দূরীকরণ, রুমের ভিতরে রং, ফ্যান, লাইট, দরজা-জানালার সমস্যা দূরীকরণ এবং হলে মেধার ভিত্তিতে আবাসিক সিট প্রদান ও পুরা হলকে একটি নির্দিষ্ট নেটের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক. মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সংশ্লিষ্ট কিছু দাবি নিয়ে আসছিল। এটা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। আমি বিগত বছরের ন্যায় এবারও ভর্তুকি দিয়ে খাবারের মানা বাড়াব। পাশাপাশি, অন্যান্য দাবিগুলোও পূরণ করব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া সাদ্দাম হোসেন হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্রদলকে ধন্যবাদ দাবিগুলো উত্থাপন করার জন্য। তবে, এ দাবিগুলোর ৯০% অলরেডি আমি পূরণ করেছি। তবে ছোটোখাটো কমতি যেখানে যেখানে আছে সেগুলোও পূরণ করব ইনশাআল্লাহ।
