ইবিতে নেই অফিসিয়াল পরিচয়পত্র : ‘আবাসিক হলের কাগজের পরিচয়পত্রে আটকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দশকের পর দশক জুড়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয় আটকে রয়েছে কাগজের খসড়া পরিচয়পত্রে। কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু ডিজিটালাইজেশনের আশ্বাস দিলেও তা চলছে কচ্ছপগতিতে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে খসড়া কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্ট পরিচয়পত্রের দাবি জানানো হয়।

ইবিতে নেই অফিসিয়াল পরিচয়পত্র : ‘আবাসিক হলের কাগজের পরিচয়পত্রে আটকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়’
তৎকালীন প্রশাসন সমস্যাটি নিরসনে প্রকল্প নিলেও অজানা কারণে ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর পরিচয়পত্র বাবদ সংশ্লিষ্ট হলের হিসাব নম্বরে ১০০ টাকা ফি জমা দিতে হয়। আবার আবাসিক হল থেকেও ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। অন্যদিকে গ্রন্থাগারে কার্ড করতে গেলেও খরচ করতে হয় টাকা। এসব অতিরিক্ত টাকা পেয়ে তার বিনিময়ে কগজের পরিচয় পত্র দেয় তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলের মধ্যে দুইটি হলের শিক্ষার্থীরা নিজ হল থেকে নিম্নমানের কাগজে হাতে লেখা পরিচয়পত্র পান। তুলনামূলক সাধারণ কাগজের চেয়ে একটু মোটা কাগজে নিজেদের নাম শিক্ষার্থীরা নিজেরাই লিখে নেন। পরবর্তীতে সে কার্ডে হল প্রভোস্ট স্বাক্ষর করে দেন। এসব নিম্নমানের কাগজের মূল্যে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ টাকা। অথচ হল প্রশাসন পরিচয়পত্র বাবদ নিচ্ছে ১০০ টাকা।
আটটি হলের পাঁচটি হলে দেওয়া হয় স্মার্ট পরিচয়পত্র। বাকি তিনটি হলে দেওয়া হয় নিম্নমানের পরিচয়পত্র। লালন শাহ হলে দেওয়া হয় প্লাস্টিকের পরিচয়পত্র। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া হলে দেওয়া হয় কাগজে লেখা পরিচয়পত্র। তিনটি হলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ শতাধিক। এসব শিক্ষার্থী নতুন ভর্তি হলে শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা করে একেক হলে পরিচয়পত্র বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা হয়। তারপরো আবার অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত টাকার হিসাব বাদে শুধু ভর্তির সময় সে হিসেবে তিন হলের ব্যাংক হিসাবে মোট জমা হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মেজবাহ রহমান বলেন, ‘ডিজিটাল যুগেও শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন হাতে লেখা পরিচয়পত্র। যাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁদের নেই অভিন্ন ডিজিটাল পরিচয়পত্র। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জন্য রয়েছে উন্নতমানের পরিচয়পত্র।’

এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট আব্দুল জলিল পাঠান বলেন, ‘আমাদের হলের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান আছে। ওসব জায়গায় হাত দিয়েও আমি বাধাগ্রস্ত হয়েছি। ওসব কাজ শেষ করে এ বিষয়ে হাত দেব। পরিচয়পত্র ডিজিটাল করা আমার প্রায়োরিটি লিস্টে আছে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্মার্ট আইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা আছে। স্মার্ট পরিচয়পত্র না পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
