পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও নৈতিক গুণাবলীতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রকৌশলী জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও নৈতিক গুণাবলীতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রকৌশলী জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোহিনী মোহন বিদ্যাপিঠ-এ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে শহরের মিলপাড়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন মালিথা। সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, শামীম আহমেদ খান, কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সাবেক সভাপতি শওকত ওসমান মিষ্টি।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য আবু তালেব, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক মাহবুব আলম বিশুসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাতটা থেকেই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে ছিল দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বিস্কুট দৌড়, বালিশ খেলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। প্রতিটি খেলায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত পাঠ করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন মালিথা, তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম।

এসময় প্রধান অতিথি কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুধু আনন্দ-উৎসবের একটি দিন নয়, এটি শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা তোমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষামূলক যে কোন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। এতে হারজিত থাকবেই, তাই ভেঙে পড়লে চলবে না, যারা পরাজিত হবে তাদেরকে কারনটা খুজে বের করতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে। আগামী দিনে তোমরাই দেশগড়ার কারিগর হবে, সু-শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে পারলে যত বাধায় আসুক একদিন যোগ্যস্থানে পৌছে যাবে।

এছাড়া প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা মেধার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। খেলাধুলা তোমাদের শিখায়, কিভাবে জয়কে বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করতে হয় এবং পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করতে হয়। জীবনে সফল হতে হলে এই শিক্ষাগুলো অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজ যারা বিজয়ী হয়েছে, তাদের অভিনন্দন। আর যারা বিজয়ী হতে পারো নাই, তাদের বলবো, হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সফলতা আসবেই। মনে রাখবে, অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় বিষয়। শিক্ষকদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এমন সুন্দর একটি আয়োজন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা ও নৈতিক গুণাবলীতেও এগিয়ে থাকুক। তারা যেন সুস্থ, সচেতন এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথি ও শিক্ষকরা পুরুস্কার তুলে দেন।