নৌকায় ভোট করার কারণে লিজকৃত জলাশয় হারানোর ভয়ে মৎস্যজীবীরা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

নৌকায় ভোট করার কারণে লিজকৃত জলাশয় হারানোর ভয়ে মৎস্যজীবীরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৫, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া -৪ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করায় সরকারি লিজকৃত জলাসয় দখল কারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর’ স্থানীর দুই নেতার বিরুদ্ধে।

নৌকায় ভোট করার কারণে লিজকৃত জলাশয় হারানোর ভয়ে মৎস্যজীবীরা

জানা যায়, কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন ও যদুবয়রা ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত ডাকুয়া নদী। এখানে প্রায় ২৭ একর জমির উপরে রয়েছে একটি জলাসয় । এখানে চাপড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ ১৪২৯ থেকে ১৪৩১ বাংলাসন পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ টাকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এর কাছ থেকে লিজ গ্ৰহণ করে। মাছ চাষ করে আসছে তারা।গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন এর পর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেরে গেলে । স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্মী ও ছাত্রলীগ নেতা উওর চাঁদপুর গ্ৰামের মৃত আতিয়ার রহমান এর ছেলে আকাশ রেজা ও আতাহার এর ছেলে যুবলীগ নেতা সবুজ শেখ এর ইন্ধনে লিজকৃত জলাসয় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, ওখানে সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নৌকা ও ট্রাক মার্কার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যার কারণে ডাকুয়া নদীর ক্যানাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে যে মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত হবে, এই মুহূর্তে বিষয়টি সমাধান করা। এখন যারা লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছে, তাদের কাছ থেকে আকাশ ও সবুজ জোর পূর্বক জলাশয় টি নেওয়ার চেষ্টা করছে।


চাপড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক, এস, এম রাশেদ টটো বলেন, সরকার এর কাছ থেকে কুমারখালী উপজেলা ডাকুয়া নদীর ক্যানাল। চাপড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিজ নিয়ে, মাছ চাষ করে আসছে,। নির্বাচনের পর আমরা (১৪ জানুয়ারি) সকালে মাছ ধরতে গেলে, যদুবয়রা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ঘটনা স্থানে একে মাছ ধরতে নিষেধ করে। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আপনাদের প্রতিপক্ষের লোকজন মাছ ধরাকে কেন্দ্র আপনাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে। আপাতত মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বলে। ইনচার্জের কথা মতো মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। আকাশ ও সবুজ এর নেতৃত্বে একটি দল আমাদের মাছ ধরতে যাতে না পারি , সেই জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তারা। আমরা সঠিক বিচার চাই, কেন আমাদের মাছ আমরা ধরতে পারবো না । কেন তারা বাঁধা দিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই বিষয়ে আকাশ রেজার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাছ ধরা বন্ধ করিনি, পুলিশ বন্ধ করেছে। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, থানায় একটি অভিযোগ করেছি, কারণ টেন্ডারের সময় আমাকে বিভিন্ন সময়ে তারা চাপ প্রয়োগ করে টেন্ডার দিতে দেয়নি, সেই সময়। তারা একটি সমন্বয় এর কথা বলে আমাকে ঠকায়। আমি এখন আইন অনুযায়ী আমার দাবী ফেরত পেতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কুমারখালী যদুবয়রা ফাঁড়ির ইনচার্জ, আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাছ ধরা কে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পাটির মধ্যে উত্তেজনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। থানার নির্দেশে আপাতত মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। পরিবেশ শান্ত হলে মাছ ধরতে বলা হয়েছে। এই বিষয় কে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা অবনতি যাতে না ঘটে সেই জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। থানা পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে।