বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বিএনপি নেতা। কুষ্টিয়ায় ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমারের আগমন ঘটে। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এর সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন।
গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্প্রতি আয়োজিত এ সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালো দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার কুষ্টিয়ায় আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে আমি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোরালো দাবি জানাই।
বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ করে একটি নিরাপদ ও রক্তপাতহীন সীমান্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি। পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় পানির ন্যায্য হিস্যা ও দ্রুত পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার দাবি তুলে ধরি। এছাড়াও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতগামী রোগীদের ‘মেডিকেল ভিসা’ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার অনুরোধ করেছি।
আলোচনা শেষে তাকে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী একতারা, বই ও তাঁতশিল্পের স্মারক উপহার দেই এবং তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। আমরা সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের অটুট বন্ধুত্ব প্রত্যাশা করি। সোহরাব উদ্দিন বলেন, সীমান্তে নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় তিনি তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তার পানির সুষ্ঠু বণ্টন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও ন্যায়সংগত সমাধান প্রয়োজন। ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার বিষয়গুলো শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে তা গুরুত্বসহকারে উপস্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
