নিয়ন্ত্রণহীন ভাবেই চলছে কুষ্টিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম পৌরবাজার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

নিয়ন্ত্রণহীন ভাবেই চলছে কুষ্টিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম পৌরবাজার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৪, ২০২৪

মোঃ কনক হোসেন ॥ বর্তমানে কুষ্টিয়ার পৌর বাজার মানেই নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য আতঙ্ক। বাজার নিয়ন্ত্রণ কথাটি যেন ডুমুরের ফুল। নেই কোন মনিটরিং এর ব্যবস্থা। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতেই যেন বন্দি কুষ্টিয়ার পৌর বাজার। এক দিকে তাপাদাহে অস্বস্তি, আবার বাজারের গরমে নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেন মৃত্যু পথযাত্রী। রিক্সাওয়ালা রনি ও জাহাঙ্গীর ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাই প্রতিদিন গড় আয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা জমা খরচ ৩০০ টাকা, কোনদিন নিজের ইনকাম ৪০০ টাকা, কোনদিন ৫০০ টাকা, আবার সেখান থেকে, বিবিধ খরচ বাবদ ১০০ টাকা পথেই খোয়া দিতে হচ্ছে। এই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ইনকাম দিয়ে সংসার চালানো দায়। বাজারে ঢুকে পেঁয়াজ রসুন আর সবজি মরিচ কিনেই টাকার সর্বোচ্চটুকু শেষ করেও পাইনা কুল, এমনটিই জানালেন অশ্রুসিক্ত নয়নে। আর মাছ-মাংস তো তাদের কাছে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্ন দেখা ছাড়া আর কিছুই না। কোরবানির ঈদের আর দুই সপ্তাহ বাকি। আবার নতুন করে ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। রোজার ঈদের আগে থেকেই সব ধরনের মুরগির মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই সময়ের মধ্যে হাতে গোনা দুই-একবার ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম নামেনি দুইশ’ টাকার নিচে। তবে আজ ব্রয়লার মুরগির দাম দুইশ’র নিচে। একইসঙ্গে কমেছে কক মুরগি ও লেয়ার মুরগির দামও। বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানি ঈদ আসছে বলেই এখন মুরগির দাম কমেছে। অন্যদিকে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মুরগির মাংসের দাম কমলেও বেড়ে চলেছে আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দাম। কোরবানির ঈদে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ছে। ক্রেতা সাধারণ মনে করেন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে, কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে সম্ভাব্য অধিক ব্যবহৃত এই সমস্ত পণ্যের দাম। অন্যদিকে বর্তমানের তুলনায় ঈদের পূর্বে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। গতকাল সোমবার (৩ জুন) কুষ্টিয়ার মিউনিসিপাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কয়েকটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে আবার কমেছেও কয়েকটি সবজির দাম। আজকের বাজারে প্রতি কেজি- টমেটো ১৩০ টাকা, দেশি গাজর ৯০, চায়না গাজর ১৪০, লম্বা বেগুন ৬০, সাদা গোল বেগুন ৫৫, কালো গোল বেগুন ৭০, শসা ৬০-৮০, উচ্ছে ৬০, করলা ৬০, কাঁকরোল ৮০, পেঁপে ৫০-৬০, ঢেঁড়স ৬০, পটল ৫০-৭০, চিচিঙ্গা ৬০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৬০, বরবটি ৬০, কচুর লতি ৮০, কচু ১০০-১২০, মিষ্টি কুমড়া ৫০, শজনে ১২০, কাঁচা মরিচ ১৬৫, ধনেপাতা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৩০-৪০, চাল কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। সবজির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দাম! আজকের বাজারে মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৭৫, দেশি পেঁয়াজ ৮০, লাল আলু ৫৫, সাদা আলু ৬০, বগুড়ার আলু ৭০, নতুন দেশি রসুন ২২০, চায়না রসুন ২২০-২৩০, চায়না আদা ২৬০, ভারতীয় আদা ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানেই ক্রস জাতের পেঁয়াজের দাম ১০, দেশি পেঁয়াজের দাম ৫, সাদা আলুর দাম ৫-১০, দেশি রসুনের দাম ৩০ এবং চায়না রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, এখন আর দাম কমার সুযোগ নাই। বরং দাম বাড়তে পারে। ঈদের আগে পর্যন্ত এভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। আরেক বিক্রেতা লালটু বলেন, কোরবানির ঈদের আগে সাধারণত আদা রসুন পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়, এবারও বেড়েছে। কয়েক দিন পরে হয়তো আরও বেড়ে যাবে। বাজার করতে আসা রাজ্জাক চাচা বলেন, রসুনের দাম মনে হচ্ছে প্রতি সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা করে বাড়ছে। আর হুট করেই আলু-পেঁয়াজের দামও বেড়ে গেলো। কোনও বিশেষ উৎসব সামনে থাকলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা কি মগের মুল্লুক? আজকের বাজারে রুই মাছ মান ভেদে কেজি প্রতি ৩৪০-৭০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৬০-৬০০ টাকা। আজ ইলিশ ১৪০০-১৮০০, কালিবাউশ ৪৫০-৫০০, চিংড়ি ৭০০-১২০০, কাঁচকি ৪০০, কৈ ২৬০-৩০০, পাবদা ৪৫০-৫০০, শিং ৪০০-৬৫০, টেংরা ৬৫০-৮০০, বেলে ৬০০-১২০০, বোয়াল ৭০০-১০০০ ও রূপচাঁদা মাছ ১২০০-১৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম আজ কিছুটা কমেছে।  কমেছে কক ও লেয়ার মুরগির দাম। আজ ব্রয়লার মুরগি ১৮৫-১৯৫, কক ৩১৫-৩৩০, লেয়ার ৩৩৮-৩৪৫, দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা। লেয়ার মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১২ টাকা এবং কক মুরগির ১০ থেকে ১৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার উপরে থাকলেও আজকে তা কমেছে। মুরগি বিক্রেতা জয় বলেন, এখন সব ধরনের মুরগির দামই কমেছে। এখন এরকম দামের মধ্যেই থাকবে। তবে ঈদের আগে কিছুটা বাড়তে পারে। বাজারে মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে গরুর মাংস ও ডিমের দাম। গরুর মাংস আজ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকা কেজি দরে। মুরগির লাল ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ৫ টাকা করে। ডিমের দোকানি আব্দুল হোসেন বলেন, প্রতিদিনই পাইকাররা ১০ টাকা করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে তো আমরাও বিভ্রান্তি গ্রস্থ হচ্ছি।

ডিম আড়তের বিক্রেতা বলেন, পাইকাররা বলেন, ডিম কম, তাই দাম বাড়ছে মানলাম, কিন্তু গত কয়েক দিন ডিম চাহিদার তুলনায় ঠিকই পাচ্ছি। তাহলে ডিমের ঘাটতি থাকলো কই? বাজারে মুদি দোকানের পণ্যের দাম রয়েছে মোটামুটি অপরিবর্তিত। এদিকে সবকিছুর দাম বাড়লেও মুদিপণ্য রয়েছে মোটামুটি অপরিবর্তিত। আজ প্যাকেট পোলাওর চাল ১৫৫, খোলা পোলাওর চাল মানভেদে ৮০-১৪০, ছোট মসুর ডাল ১৪০, মোটা মসুর ডাল ১১০, বড় মুগ ডাল ১৬০, ছোট মুগ ডাল ১৮০, খেসারি ডাল ১২০, বুটের ডাল ১১৫, ডাবলি ৮০, ছোলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭, খোলা সয়াবিন ১৫৭, কৌটাজাত ঘি ১৩৫০, খোলা ঘি ১২৫০, প্যাকেটজাত চিনি ১৫০, খোলা চিনি ১৪০, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাগণের দাবি বাজারে বিশেষ ভাবে নজরদারি না করলে ঈদের আগে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি হয়ে যাবে কুষ্টিয়া পৌর বাজার। অসহায় মানুষ রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের লোকেরা বলেন, বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাজারদরের উপর বিশেষ খবরদারি এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ না করলে, না খেতে পেয়ে মারা যেতে হবে তাদের। সচেতন মহলের দাবি, বাজারে বিশুদ্ধ মনিটরিং এর মাধ্যমে এখনই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিহত করে, বাজারের দ্রব্যমূল্যের সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুবা নিম্ন আয়ের মানুষেরা সংসারের চাপ গ্রহণ করতে না পেরে বিভিন্ন অপরাধ ও চুরির মধ্যে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলতে পারে।