নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রেনউইক কমলাপুর এলাকার নুরুল ইসলাম এর ছেলে মিরাজুল ইসলাম নিখোঁজ স্ত্রী সম্পা খাতুন ও ৮ বছরের কন্যা সন্তান মরিয়ম কে ফিরে পেতে দারে দারে ঘুরছে। নিখোঁজ স্ত্রী সদর উপজেলার বড়িয়া গ্রামের জালাল শেখের মেয়ে সম্পা খাতুন। ১০ বছরের দাম্পত্য জীবন তাদের। স্ত্রী-সন্তান নিখোজের বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কাজের সুবাদে পঞ্চগড় জেলাতে অবস্থান করি।
আমার স্ত্রী সম্পা খাতুন তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য গত ২৫ শে আগস্ট সকাল ১০ টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সন্ধ্যায় মোবাইলে যোগাযোগ করলে সে বাবার বাড়িতে ভালোভাবে পৌছেছে বলে জানায়,এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়,পরবর্তীতে তার বাবার বাড়ির লোকজনের কাছে জিজ্ঞেস করতে তারা বলে,সম্পা ও মারিয়া তাদের ওখানে যায় নাই। এরপর পরিচিত আত্মীয় স্বজন এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও স্ত্রী সন্তানের কোন খোঁজ না মিললে গত ৩০-০৮-২০২৪ইং তারিখে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি,ডায়েরি নং ১৩৯৪, তারিখ৩০-০৮-২০২৪ইং।
এক প্রশ্নের জবাবে নিখোঁজ সম্পার স্বামী জানান, আমার স্ত্রীর সাথে আমার কোন মনমালিন্য ছিলো না। অন্য কারো সাথে কোনো সম্পর্ক ছিলো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর এলাকার মৃতঃ সমসের মোল্ল্যার ছেলে জামাল যাতায়ত করতো, তার সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো, সম্পা নিখোঁজের পরে জানতে পারি, সম্পার সাথে জামাল কারনে অকারণে মোবাইলে কথা বলতো। এদিকে সম্পা ও মরিয়মের নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে মিরাজের পারিবারিক ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সম্পার সাথে জামালের অবৈধভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের দুজনের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট অনুসারে প্রতি নিয়ত তাদের দু’জনের মধ্যে কথা হতো।সকলের ধারণা সম্পা ও মরিয়ম নিখোঁজের সাথে জামাল সম্পৃক্ত থাকতে পারে, জামালকে আইনের আওতায় আনা হলে বেরিয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল।
এদিকে নিখোঁজ সম্পার ভাই মিলন বলেন, আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা, সম্পার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সম্পার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানতে পারি,আমরাও পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাইনি। এদিকে অভিযুক্ত জামালের সাথে কথা বললে, তিনি সম্পার সাথে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ওকে কোথাও নিয়ে যায় নি।অন্য দিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুল হক বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে বিষয়টি তদন্ত চলছে।
