বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৩
বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর মাহতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে এক ছাত্রীর আত্মহত্যা ও প্রধান শিক্ষক আহতের ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথকভাবে দুইটি মামলা করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

শুক্রবার (১১ আগষ্ট) রাতে সাতজনের নামে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫ -২০ জনকে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

এরআগে গত বুধবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন নিহতের মা শান্তা খাতুন। এতে আসামি করা হয়েছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মশিউর রহমান লাল্টু (৪৫), মো. ওলিউর রহমান অলিদ ( ৫০), মাহবুবা খাতুন (৪০) ও আয়া শিউলি খাতুন (৪২)। তাঁরা আত্ম গোপনে রয়েছে।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ছাদে উঠে পাঁচ ছাত্রী ধুমপান করে। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাদের ডেকে এনে ভিডিও ধারণ করেন এবং অভিভাবকদের জানানো, অনলাইনে ছড়ানো ও টিসি দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে দুই ছাত্রী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাদের জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও গলায় ফাঁস জিনিয়া খাতুন আত্মহত্যা করে। তিনি সুলতানপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ দেখতে যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ। সেসময় উৎসুক জনতা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে আহত করে।

আরো জানা গেছে, এসব ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের তদন্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে রোববার।

বিদ্যালয়ে ধূমপানকাণ্ডে আরো এক মামলা

এবিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি অসুস্থ থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম আশরাফুল আলম হেলাল বলেন, হামলার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনি প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহত ছাত্রীর মা শান্তা খাতুন বলেন, ‘ আমার মেয়ে কোনোদিনও সিগারেট টানেনি। মেয়ের কোনো খারাপ রিপোর্ট নেই। স্যাররা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার মেয়েকে দুইঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। সেজন্য মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।’

অপরদিকে শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ, রেকোর্ডিং বা ছবি তোলা নিয়ে ধ্রুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও একাংশ শিক্ষার্থী বলছেন শিক্ষকরা সিগারেট টানা ও শিক্ষার্থীদের স্বীকারোক্তি ভিডিও ধারণ বা ফোনে রেকোর্ডিং করে করে ইন্টারনেটে ছড়ানো বা অভিভাবকদের দেখানোর হুমকি দিয়েছিল।

আর শিক্ষকরা বলছেন, কোনকিছুই ভিডিও ধারণ, ‘রেকোর্ডিং বা ছবি তোলা হয়নি। তাঁরা শুধু শিক্ষক হিসেবে শাষণ করতে চেয়েছিল। টিসি দেওয়ার ভয় দেখিয়েছিল।’

অপরদিকে প্রশাসন বলছেন, ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে। ভিডিও বা রেকোর্ডিংয়ের সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন সুষ্ঠ তদন্ত করে আসল রহস্য বের করা হোক।

জিনিয়ার মা ও স্বজন ও একাংশ অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ব্লাকমেইল করে ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়ানোর হুমকি দিয়েছিল। সেজন্যই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার শিকার এক ছাত্রী বলেন, তিনি ও জিনিয়া সিগারেট টানেনি। শুধু পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবুও স্যাররা তাঁদের ডেকে নিয়ে অপবাদ দিছে। ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘ শিক্ষক হিসেবে শাষণ করার জন্য ব্যাগ কেড়ে নিয়ে টিসি দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও বা রেকোর্ডিং করা হয়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু বলেন, ‘ ঘটনার গভীর তদন্ত করতে হবে। ঘটনার পিছনের রহস্য উদঘাটন করতে হবে। নিশ্চয় কোনো বড় রহস্য আছে। না হলে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করবে কেন?। ‘

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম বলেন, থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার নেই। উভয় ঘটনায় গুরুত্বসহকারে কাজ করছে পুলিশ। তবে ভিডিও সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউএনও ( ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে। ভিডিও বা রেকোর্ডিংয়ের সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, একটি বিশ্বস্ত সুত্র বলছে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। আরেকটি সুত্র বলছে ভিডিও নেই। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

আরও পড়ুন: