ইবি প্রতিনিধি ॥ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গুলোর মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেল সংযোগ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আমার সমস্ত স্বপ্ন, চিন্তা ও শ্রম আমি প্রথমত শৈলকূপা এবং দ্বিতীয়ত এই বঙ্গের মানুষের জন্য নিবেদন করতে চাই। কারণ সবার আগে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার জন্য করতে পারলে বাংলাদেশকেও কিছু দেওয়া যাবে।
রেললাইনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারিগরি কমিটি ২২ এপ্রিল তাদের রিপোর্ট দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের দিকে যাবে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকা-এর আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ সংক্রান্ত উন্নয়ন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় পদ্মাসেতু আমাদের স্বপ্নের পরিকল্পনার অংশ।
তবে আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তার ফলাফল এসব মিলে এ ধরণের ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির দিকে ঢুকলে আমাদের কর্মসংস্থান, আমাদের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার পরিকল্পনাগুলো বাঁধাগ্রস্ত হয় কিনা সেটা আমরা চিন্তা করে দেখছি। তবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের মধ্যে আছে। যশোর, খুলনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি জানান।
সংসদ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী জানান, কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের কার্যক্রম আমরা শুরু করে দিয়েছি । প্রতি জেলায় যেন কোল্ড স্টোরেজ করা যায় সেদিকে মনোনিবেশ করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। মন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বপ্নের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রত্যেক জেলায় সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অব্যবহৃত জমিতে সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হবে। এর ফলে, একদিকে যেমন সেচের জন্য যে ডিজেল খরচ হচ্ছে সেটা লাগবে না।
অন্যদিকে বিদ্যুতের জন্য যে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সেটা লাগবে না। তিনি বলেন, আমরা দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। মন্ত্রী শহীদ ইয়ামিন-এর নামে একটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অনুরোধ জানান।
সিনিয়র সচিব (পি আর এল) ও বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকা-এর সভাপতি ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এতদঅঞ্চলের হৃদপিণ্ড। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা দেশের শিক্ষা উন্নয়নে অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করেছে। মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি নিরসনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে রেললাইন স্থাপন করা প্রয়োজন।
তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচার এবং ইনস্টিটিট অব ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন স্থাপনে মাননীয় মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকা-এর মহাসচিব মহ: মনিরুজ্জামান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মিজানুর রহমান, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা,
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, ইবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, ইবি ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহমেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন প্রমূখ। এছাড়া কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা, জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, সাদা দল, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা কর্মচারী ফোরাম, ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সহ ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
