দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টায় বিজিবির বাধা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টায় বিজিবির বাধা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সীমান্ত এলাকার আশ্রয়ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে তারা। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের জগতসিংপুর জেলার জগতসিংপুর থানাধীন তারিকুন্ড গ্রামের ১৪ জন বাসিন্দাকে বিএসএফ বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছিল। এ সময় সীমান্তে বিজিবির টহল ও কড়া নিরাপত্তার কারণে বিএসএফ ওই কাজে ব্যর্থ হয়। পুশইনকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ওই এলাকার মৃত হারুন শেখের ছেলে শেখ জব্বার (৭০); তার চার ছেলে শেখ হাকিম (৪৫), শেখ ওকিল (৪০), শেখ রাজা (৩০) ও শেখ বান্টি (২৮); শেখ ওকিলের স্ত্রী শাবেরা বিবি (৩০); শেখ হাকিমের স্ত্রী শমশেরি বিবি (৪০); শেখ রাজার স্ত্রী মাইনু বিবি (২৫); শেখ জব্বারের স্ত্রী আলকনি বিবি (৬০); মৃত শেখ হোসেনের স্ত্রী গুলশান বিবি (৯০); শেখ ওকিলের মেয়ে শাকিলা খাতুন (১১); এবং শেখ রাজার সন্তান নাছরিন আক্তার (১২), শেখ তাওহিদ (১১) ও আড়াই বছর বয়সী শেখ রহিত।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিএসএফের আহ্বানে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ মহিষকুন্ডি বিওপিতে কর্মরত সুবেদার মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিজিবি দল এবং ১৪৬ বিএসএফ-এর নিউ উদয় কোম্পানি কমান্ডার এসি অনিল কুমারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিএসএফ প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। গতকাল দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আশ্রয়ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত মেইন পিলার ১৫৪/০৭ এস-এর নিকটবর্তী, ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত চাইডোবা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকে বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক পুশইনের ঘটনায় জোরালো প্রতিবাদ জানান এবং তাদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে শূন্য লাইনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হলে তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরপর বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। উভয় পক্ষের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠকটির সমাপ্তি ঘটে বলে বিজিবি সুত্র জানান।