দৌলতপুর সীমান্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর সীমান্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর। ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ভারতের সাথে সিমান্ত এলাকা ও  পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধের প্রবণতা বেশি। গেল দেড় বছরে এ অঞ্চলে অপরাধ সংগঠনের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।  এদিকে এই জনপদের অপরাধ দমাতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ৪০ সদস্য একটি দল সিমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোন উদ্ধার বা কাউকে আটক করা হয়নি। গত ২৯ নভেম্বর শনিবার দুপুরে উপজেলার সীমান্ত এলাকায় জনি ইসলাম নামের এক অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে দেড় বছরে উপজেলাটিতে ২৪টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের ঘটনাও উদ্বেগজনক।

গত সোমবার দুপুরে সীমান্ত এলাকায় চালানো অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেপ্তার  করে বিজিবি। বিভিন্ন সময়ে এই উপজেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৩৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৩১ রাউন্ড গুলি, এবং এসব চোরাচালানে জড়িত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া থানায় জমা পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ, যার ভিত্তিতে মামলা হয়েছে ৭৩৭টির বেশি। এ অঞ্চলের অপরাধ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।  এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সীমান্ত ও চরাঞ্চলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সবশেষ  সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা আলোচিত দুই অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  অপরাধ চক্রের এই দুই সদস্যকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গত সোমবার সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি এলাকায় জনি ইসলাম (৩৫) নামে এক অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় নাটরের বড়াই গ্রাম এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত ছামু সর্দারের ছেলে লালু মস্তান (৪৬) এবং মৃত বাকের হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (৩৫)। এ ঘটনায়  নিহত জনির মা হাসু খাতুন এ ঘটনায় শনিবার রাতে দৌলতপুর থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামি জামালপুর গ্রামের মৃত দুল্লোব আলীর ছেলে সিকান্দার আলী (৬০) এবং এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মহিষকুন্ডি ভাগজোত বাজারে পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের ঘটনার পর ৩১ আগস্ট রবিবার পুলিশ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় পাকুড়িয়া গ্রামের  অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন পালিয়ে গেলেও তার বাড়ি থেকে একটি বিশেষ লাল নোটবুক উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া ওই নোটবুক থেকে সীমান্ত অপরাধের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই নোটবুকে সীমান্তের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা সাজানো, ডাক্তারি রিপোর্ট তৈরির তথ্য, সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ অস্ত্র-মাদক ব্যবসার হিসাব, জড়িত ব্যক্তিদের নাম এবং অর্থ ভাগবাটোয়ারার বিস্তারিত পাওয়া গেছে। সূত্র দাবি করেছে এতে উপজেলার কিছু প্রভাবশালীর নামও উঠে এসেছে। তবে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পথে বাধা দিতে  প্রভাবশালী চক্র নানান ভাবে তৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দৌলতপুরের অপরাধীরা যতবড়ই প্রভাবশালী হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে।” দৌলতপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সীমান্তের অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আলোচিত দুই আসামিকে সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দৌলতপুরের অপরাধ দমনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা স্থানীয় মানুষের সহযোগীতা চাই।” অভিযানের বিষয়ে তিনি আরো বলেন মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে অন্তত ৪০ সদস্যের একটি বিশেষ দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্ধার বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।