দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে সরকার বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল ইউনিয়ন পরিষদে মজুদ না করে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হকের নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশের সব ইউনিয়নে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ফিলিপনগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রে সেই চাল ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে সংরক্ষণ না করে প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত একাধিক পুরুষ ও মহিলা মেম্বারদের দাবী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাউল বিতরন না হলে সঠিকভাবে বন্টন হবেনা,পাবেনা গরীব দুখীরা। তবে স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়,গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ফিলিপনগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে দিবালোকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করার পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক নিজের বাড়ি বা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যার পর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।বর্তমানে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও প্যানেল চেয়ারম্যান ও তার ঘনিষ্ঠদের একটি সিন্ডিকেট বাহিরমাদী বাজারের একটি গোডাউন এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের নিজস্ব হেফাজতে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল মজুদ রেখেছেন।
জানা গেছে, আগামী শনিবার (১৪ মার্চ) এসব চাল বিতরণ করা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারণ ইউনিয়নের একপ্রান্তে অবস্থিত বাহিরমাদী গ্রামে চাল মজুদ রাখায় দূরবর্তী এলাকার দরিদ্র মানুষদের ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন দীর্ঘ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে যদি ভিজিএফের চাল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে,তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প স্থানে রাখা যেতে পারে।
তবে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদে যেহেতু পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প এবং দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন রয়েছে, সেহেতু সেখানে আইনশৃঙ্খলার সহযোগিতা পাওয়া যাবে অনায়াসে ও চাল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা থাকার কথা। তিনি আরও বলেন, ”প্যানেল চেয়ারম্যানের নিজ হেফাজতে ভিজিএফের চাল রাখার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।” এদিকে উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অলরেডি ইউ’পি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বলে দেওয়া হয়েছে, শনিবারে ভিজিএফের চাউল বিতরন ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে বন্টন করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
