দৌলতপুর ফিলিপনগরে নির্বাচনের পর ফের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর ফিলিপনগরে নির্বাচনের পর ফের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সন্ত্রাসী শরিফ কাইগি, রিন্টু, দোয়েল ও লম্পট শিহাবের ছুড়া গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, আনিচুর রহমান (৫৫), নবাব মাস্টার (৫০), আশরাফুল ইসলাম (৪৫) ও নিজান (৩৬) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

গুলিবিদ্ধ আনিচুর রহমানর অভিযোগ, দফাদারপাড়া এলাকার মৃত তফিলের ছেলে সিহাব (৫০), মজুদ্দিন দফাদারের ছেলে রিন্টু (২৬), সোহরাব উদ্দিনের ছেলে দোয়েল (২৫) ও জালাল (৪৫) সহ ৮-১০ জন তার বাড়িতে চুরি করে। এরপর থেকে তারা গা ঢাকা দেয়। পার্শ্ববতী পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে সিহাব ও তার লোকজন অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে ৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে অনিচুর জানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদীপুর গ্রামের তুয়বুদ্দির ছেলে সিহাব (৫০), শরিফ কাইগি, রিন্টু, দোয়েল ও জালালসহ ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধে জড়িত। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতায় তারা কিছুদিন এলাকা ছাড়া থাকলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এলাকাতে আসার পর থেকেই বিভিন্ন ব্যাক্তিদের কাছ থেকে চাঁদাদাবি করেই চলেছে। উল্লেখিত ব্যাক্তিরা চাঁদাদাবি করে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শ সকল স্বাবলম্বী ব্যাক্তিদের কাছে। তবে উপরোক্ত ঘটনার পরপরই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবারও চরাঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। ভুক্তভোগীদের দাবি, আনিচুর রহমানের বাড়ির টিন চুরির ঘটনা ও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই গোলাগুলির সূত্রপাত।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন,এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।