দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের ফলন হয়েছে ভালো। ফলে এখন ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন ও বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে মূলত মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে, যার সিংহভাগই হয় পদ্মার চরাঞ্চলে। চলতি মৌসুমে এ ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৪১ হেক্টর জমি।
তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা গেছে। মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে এই ফসল ঘরে তুলতে পারেন তারা। যদিও সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে, তারপরও বর্তমান বাজারদরে পেঁয়াজ বিক্রি করে খুশি কৃষকরা। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক সোহেল হোসেন জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পদ্মার চরে ৫ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০ মন ফলন হয়েছে। ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে করে বন্যায় হওয়া ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেঁয়াজ উত্তোলনের কাজ বাড়ায় নারী শ্রমিকদের আয়ের সুযোগও বেড়েছে। প্রতিদিন তারা ৩০০ টাকা বা তার বেশি আয় করছেন, যা দিয়ে সংসারের বাড়তি চাহিদা মেটাতে পারছেন বলে জানান যাটোর্দ্ধ এক নারী শ্রমিক কুলসুম আরা। কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন আড়ত ও ব্যবসা কেন্দ্রে সরবরাহ করছেন পাইকাররা। এতে তারাও লাভবান হচ্ছেন। তবে তাদের দাবি, দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা প্রয়োজন। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চরাঞ্চলের কৃষকরা মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা এ ফসলে লাভবান হলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষ আরও বাড়বে, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
