দৌলতপুর পদ্মার চরে জমি দখলের চেষ্টা বিএনপি ক্যাডারদের - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুর পদ্মার চরে জমি দখলের চেষ্টা বিএনপি ক্যাডারদের

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মানদীর চরে দীর্ঘদিন বসবাসকারি কয়েকটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ক্যাডারদের বিরুদ্ধে। গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা ভারতে পালানোর পর থেকে এই চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি ক্যাডার নান্নু হালসানা গং। তারা বাসিন্দাদের জমিকে নিজেদের দাবী করে, ঝাড়ের বাঁশ ও গাছপালা কেটে নিয়েছে। এছাড়া জোর করে কৃষি জমিতে কালাই বুনেছে জমির মালিকানা দাবীকারীরা। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

এঘটনায় থানায় মামলা করার পর বাড়ী ছাড়া ৮টি পরিবারের পুরুষরা। বাসিন্দাদের দাবী ব্রিটিশ আমল থেকে ওই জমির মালিক তাদের পূর্ব পুরুষ। অপর পক্ষের দাবী ওই জমি তারা কিনেছেন, বসবাসকারিরা আওয়ামীলীগ করায় এতদিন জমির দখল নিতে পারেননি তারা। বর্তমানে মালিকানা দাবীকারিদের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির কর্মিদাবী করা নান্নু হালসানা। আর বসবাসকারিদের নেতা মাসুদ রানা ওরফে রানা মাস্টার। দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বাড়িতে সালিসও হয়েছে। এসব সালিসে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বিল্লাল হোসেন (বিল্লাল চেয়ারম্যান) সহ অন্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর নিচপাড়া এলাকার। সীমান্ত ঘেষা পদ্মা নদীর চরে অবস্থিত এলাকাটির জমি এখনো খাস খতিয়াভুক্ত হয়নি।

সরেজমিন যা জানা গেল: গত ৯ অক্টোবর রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে নৌকায় মাথাভাঙ্গা নদী ও পদ্মার একটি সরু ধারা পার হয়ে, চরের (৮/৯ কি.মি.) ভিতরে (মোটর সাইকেল এখানকার একমাত্র বাহন) ওই বসতিতে গিয়ে দেখা গেছে, মাটির রাস্তা ধরে কিছুদুর এগিয়ে বাম পাশে একটি মসজিদ ও এর পশ্চিমে আরেকটি ঘেরা জায়গা। এটির পাশ দিয়ে পায়ে চলা পথ নেমে গেছে দক্ষিনে, বামে দুটি বাড়ী আর ডানে উচু ডিবির উপর এক সারিতে ৮টি বাড়ী। এসব বাড়ীর মালিকরা হলেন, নজরুল, জতু, সাত্তার, বাচ্চু, আনারুল, মফিদুল, হুজুর ও রবিউল। এদের সীমানার বামে আকবরের বাড়ী। এই বাড়ির পাশে প্রায় ৮কাঠা জমিতে দুটি বাঁশ ঝাড়। এই বাঁশ ঝাড়ের ৮০ ভাগ বাঁশ কেটে নেয়া হয়েছে। বাচ্চা ও নারী ছাড়া এসব বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ নেই, ভয়ে সবাই পালিয়েছে।

ওই জমিতে বসবাসকারী মফিজুল ইসলাম (প্রতিপক্ষের ভয়ে বাড়ী ছাড়া) এর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, ওরা এসে বাড়ি ছাড়তে বলে (নান্নু, মফিজ, সাইদুল), বাড়ি ভাংতি বলে, গলায় হ্যাসি (হাসুয়া) বাধায়, আমার নিজের গলায়ও হ্যাসি (হাসুয়া) ধরেছে। ওদের ভয়ে আমার স্বামীরা বাড়ী ছাড়া। তিনি আরো বলেন, এই জায়গাটায় আমরা অনেক দিন ধরে বাস করি, আমার শ্বশুররা বাস করে গেছে, তার বাবা (দাদা শ্বশুর) বাস করছে, আমরা বাস করছি। এখন নান্নুরা এই জমির মালিকানা দাবী করছে।ওই এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, মসজিদের পাশের ১০কাঠা জমি রানা মাস্টারের কাছ থেকে ২০১৫ সালে কিনেছি। এখন নান্নু হালসানারা বলছে ওই জমি তাদের। তিনি বলেন, এই এলাকায় ভাঙ্গনের আগে আমাদের সাবেক বাড়ি ছিল। তখন খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম আমরা।  ভাঙার পরে পাকুড়িয়া চলে গেছি। আবার এখানে চর জাগার পর এসেছি। তিন চারবার ভাঙনের শিকার হয়েছি আমরা।

নিচ পাড়া এলাকার একটি দোকানে বসে থাকা (সম্পর্কে রানা মাস্টারের চাচা) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নান্নুর বাপের জমি না, এখন জোর যার মুল্লুক তার, গায়ের জোরে আমরা পারছিনি। কখনো বাড়ি ভাঙতে বুলছে, কখনো ঠ্যাং ভাঙছে। কি বলবো বাবা আমি তো নড়তে পারছিনি, গায়ে বল থাকলে ওর মত নান্নু বুলতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, এই জমিতে আমরা বহুদিন ধরে, ৭০-৮০ বছর ধরে আছি। ওই জমি দেখে এলে, ওখানে আমার বাপেরা পাঁচ ভাই বাস করত, এতদিন ধরে আমরা আছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চরের এক বাসিন্দা জানান, এই এলাকার (চরের) জমি এখনো খাস খতিয়ান ভুক্ত হয়নি। এ কারনে জমির মালিকানা যাচাই সম্ভব হয়না। এই সুযোগে অনেকে ভারতীয়দের সাথে দেশভাগের আগে বিনিময় বা জমি ক্রয়ের জাল দলিল তৈরী করেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, মোহাম্মদপুর নিচপাড়া এলাকা আমার ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। নদী ভাঙ্গন এলাকা হওয়ার কারণে, এখনো ওই এলাকায় জরিপ সম্পন্ন হয়নি। অনেকেই বসবাস করে, চাষ বাস করে ৩০-৪০ বছর ধরে বাস করার লোকজনও আছে সেখানে। বর্তমানে ওই জমি নিয়ে মামলা-হামলার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে নিচপাড়া এলাকায় জমি-জমা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে বলে শুনেছি। যতদূর জানি প্রায় ৩০ বছর ধরে রানা মাস্টারের বংশের লোকেরা ওখানে আছে। তবে কার কতটুকু কাগজ আছে, সেটুকু আমি জানিনা।

ওই জমির মালিকানা নিয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বাড়ীতে সালিস হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই এলাকার জমি বিক্রির চুক্তিনামা (সরকারি জরিপ সম্পন্ন না হওয়ায়) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারের স্বাক্ষরে কার্যকর হয় বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। সরকারি দপ্তর থেকে যা জানা গেছে: দৌলতপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, কুষ্টিয়া জেলায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) চলমান আছে, দৌলতপুর এখনো শুরু হয়নি। জরিপ শেষে সরকার চরের জমিগুলো খাস খতিয়ান ভুক্ত করবে। সরকারি জরিপ সম্পন্ন না হওয়ার পরও ১৯৯১ সালে রেজিস্ট্রিকৃত চরের জমির একটি দলিল সম্পর্কে জানতে চাইলে, কুষ্টিয়ার জেলা রেজিস্ট্রার গাজী মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, আগে ব্রিটিশ আমলের পরচা ধরেও জমি রেজিস্ট্রি হত। ২০০৫ সালের পর থেকে হাল রেকর্ড না থাকলে জমি রেজিস্ট্রি হয় না। জরিপের বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়ার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) মমতাজ বেগমকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

পরে আমার দেশের পক্ষে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও উত্তর দেননি তিনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে সম্পাদিত দলিল সম্পর্কে কুষ্টিয়ার জিপি এ্যাড. মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ২০০৫ সালের আইন অনুযায়ী হাল রেকর্ড না থাকলে, ওই সব জমির মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে দখলস্বত্বের পরিবর্তন হতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যানের সাক্ষরে সম্পাদিত দলিলের আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানান সরকারের এই কৌসুলী। যেভাবে জমির মালিকানা দাবী করা হয়: পাকিস্তান আমলের ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতীয় নাগরিকদের সাথে সম্পাদিত এওয়াজ নামার মাধ্যমে। এসব দলিলের (এওয়াজ নামার) কোন বালাম বই বাংলাদেশে নেই। এক পক্ষের দাবী, ওই জমিতে বসবাসকারি রানা মাস্টারের তিন পুরুষ আগে হিন্দু বাড়িতে কাজ করত। ওই হিন্দু মালিক উনাকে (রানা মাস্টারের পূর্ব পুরুষ) বলেছিল তুই যতদূর হাঁটতে পারিস ততটুক জমি তোর।

অপর পক্ষের দাবী, পাকিস্তান আমলে ইসমাইল বিডি আর নামে এক জনের পূর্ব পুরুষ ভারত চলে যাওয়া হিন্দুদের কাছ থেকে বিনিময় এর মাধ্যমে ওই জমির মালিকানা পেয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক নেতা আয়ুব (মেম্বার)  বলেন, রানা (রানা মাস্টার) বলে একজন ছেলে আছে, ওদের জমি আলাদা। আর ইসমাইল বিডিআর এদের জমি আলাদা। রানার পরিবারের সদস্যরা বিডিআরদের জমিতে চাষ-বাস করত। ইসমাইল বিডিআর বাইরে চাকরি করার কারণে এবং চরাঞ্চল হওয়ায় রানারা তাদের জমি দখল করে নেয়। রানা মাস্টার আওয়ামী লীগ করার কারণে বিডিআরের ওয়ারিশরা এত দিন ওই জমি দখল করতে পারে নাই। হাসিনা পালানোর পর তারা ওই জমি দখল করছে। ওই জনপ্রতিনিধি আরো বলেন, পূর্ব পুরুষের নামে থাকা অনেক পুরাতন কাগজপত্র দেখিয়ে চরের মানুষ দখলে আছে। এছাড়া ভারতীয় হিন্দুদের কাছ থেকে এওয়াজ নামা বা কেনার নকল কাগজ তৈরী করে অনেকে জমির মালিকানা দাবী করে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানান, বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে জরিপ শেষে চরের জমিগুলো খাস খতিয়ান ভুক্ত করবে সরকার। চরের এসব জমি যাদের দখলে থাকবে তারা পরবর্তিতে সরকারের কাছ থেকে নিতে পারবে, এই আশায় মোহাম্মদপুর নিচপাড়া এলাকায় দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সূত্র জানায়, মনে করুন, আপনার পূর্ব পুরুষের নামে ওই এলাকার জমির কাগজ আছে, আপনেোদর পক্ষে ওই জমি দখল করা সম্ভব না। ওই এলাকার জমির দাম কাঠা প্রতি ১০ হাজার টাকা। নান্নু হালসানার মত লোকদের সাথে যোগাযোগ করে, কাঠা প্রতি ৫হাজার টাকা করে বিক্রির চুক্তি করলেন। নান্নুরা জমি দখলের পর চেয়ারম্যানের কাছে রেজিস্ট্রি করবেন। যেহেতু জমিগুলো খাস হবে, আপনার দখলে নেই, ওই এলাকায় গিয়ে বসবাস বা নিজে চাষ-আবাদও করবেন না।

তাই কাঠা প্রতি ৫হাজার টাকা আপনার জন্য লাভ জনক। সূত্র আরো জানায়, চলমান জরিপ শেষে সীমান্তবর্তি এলাকার চরের অনেক জমি খাস খতিয়ান ভুক্ত হবে। এই সব জমি দখলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সম্ভাব্য জমি গুলোর আগের মালিক বা দখল স্বত্ব ছিল, তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এবং অল্পদামে জমি ক্রয়ের চুক্তি করছে। এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ভাই শামীম মোল্লা, বাচ্চু মোল্লার আত্মীয় আলা মোল্লা, ভাগ্নে  বোনের ছেলে) খসরু মোল্লা সহ চর অঞ্চলের নির্বাচিত ও সাবেক জনপ্রতিনিধি। দখল চেষ্টায় নেতৃত্ব দেয়া নান্নু হালসানা জমি দখলে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি ২০১০ সালে ভেড়ামারার ডাবলুর (ভেড়ামারা পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু) কাছ থেকে কিনেছি আমি।

এমপির (রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা) বাড়িতে সালিসের পর বিল্লাল চেয়ারম্যান (উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বিল্লাল হোসেন), শামীম মোল্লা (উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ভাই), আলা মোল্লারা (বাচ্চু মোল্লার আত্মীয়) জমি মেপে দিয়েছে। আমার সাড়ে ৭বিঘার মধ্যে সাড়ে ৬বিঘা দিয়েছে আর রানা মাস্টারকে দেয়া হয়েছে সাড়ে ৬বিঘা। কিন্তু আরো দশ কাঠা ওর (রানা মাস্টারের) দাবী। এমপি (রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা) ভোটের পরে আমাদের জমি মেপে ঠিক করে দেবেন বলেন নান্নু। রানা মাস্টারের জমি থেকে বাঁশ কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে নান্নু হালসানা বলেন, জমিতে কালাই বুনেছি ছাগলে খেয়ে যাচ্ছে, তাই ৩৫টি বাঁশ কেটেছি।

কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, সাড়ে সাত বিঘা জমি আমরা কিনেছি, আমি একা না আমরা পাঁচজন কিনেছি। শরিফুল, মতি, সাজু, কালাম ও আমি কিনেছি। তিনি আরো বলেন, বাঁশ কেটেছে ভেড়ামারার ডাবলু, আমি কি ওই জমির মালিক, যে বাঁশ কাটতে যাব। এব্যাপারে ভেড়ামারা পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, ওই চরে আমাদের বেশ কিছু জমি আছে, এখনো বিক্রি হয়নি। সাড়ে সাত বিঘা জমি নান্নু হালসানার কাছে বিক্রির কথা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে বাচ্চু ভাই (সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা) আমাকে ফোনে বলেছেন, ডাবলু ভোটের পর (আগামী সংসদ নির্বাচন) তোমার চরের জমির সমাধান করে দেব।

এসব বিষয়ে জানতে গত দুই দিনে এক পক্ষের নেতা মাসুদ রানা ওরফে রানা মাস্টারের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। তাঁর বাসায় সালিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ও মিটমাট হচ্ছে না, বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। দুই পক্ষই দাবি করছে জমি তাদের। আপনার ভাই শামীম মোল্লা ও লোকজন জমি মেপে দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একপক্ষ মিটমাট মানছে না। আর আমি, জমিজমা ও টাকা পয়সার সালিস করতে নিষেধ করেছি। তিনি সালিস করেনি দাবী করে বলেন, না আমি করি নাই, আমার ওই ইউনিয়নের বিএনপি নেতারা আমার বাড়িতে এসে, বসে সালিশ করছিল। সেই সালিস এক পক্ষ মানছে না।

সালিস কারা মানছে না এই প্রশ্নের জাবাবে সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চু মোল্লা বলেন, রানা মাস্টার আছে, আর একটা পক্ষ আছে আমি লীগ করে, তারাই মানছে না। এর মধ্যে আবার বিএনপির কিছু লোকজন আছে। দুই পক্ষেই বিএনপি’র লোকজন আছে, আওয়ামী লীগের লোকজনও আছে, গ্রামে যেটা হয় বলেন তিনি। নান্নু হালসানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে আমাদের দলের কোন পদে নাই, এমনি সমর্থক। ওই এলাকায় বাড়ি ঝড়ু বলে আমাদের বিএনপি’র একজন সমর্থক আবার রানা মাস্টারের পক্ষে আছে যোগ করেন তিনি। রানা মাস্টার এক সময় আপনার সমর্থক-কর্মী ছিলেন এই দাবি করে এ প্রশ্নের জবাবে বচ্চু মোল্লা বলেন, না এটা ঠিক না ও আওয়ামী লীগ করে। এখন নতুন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে, ওইখানকার কিছু বিএনপি নেতা-কর্মির সাথে থেকে।