দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তে মাদক পাচারের টাকা চাওয়ায় জনি (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ মাদক চোরাকারবারীরা। গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া সীমান্ত এলাকায় তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহত মাদক পাচারকারী যুবক জনি একই ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে এবং সীমান্তের মোহন হত্যা মামলার পলাতক আসামি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জামালপুর সীমান্তের শীর্ষ মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সোহান (৩৬) ও আমিরুল ইসলামের সুমন (৩৫) এর লেবার হিসেবে মাদক পাচার কাজে জড়িত ছিল জনি।
মাদক পাচারের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে জনিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সোহান ও সুমন। প্রাণে বাঁচতে জনি আহত অবস্থায় পালিয়ে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে জনি নিজ বাড়ি জামালপুর গ্রামে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সীমান্তের শীর্ষ মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারী সোহান ও সুমনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সশস্ত্র মাদক পাচারকারী তার ওপর হামলা চালায়। এসময় হামলকারীরা জনিকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া গ্রামের কবরস্থান সংলগ্ন মাঠের মধ্যে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।
জনি হত্যাকান্ডে যারা অংশ নেয় তাদের মধ্যে নান্নু, কদম, সিরাজ, ফয়সাল, নয়ন, আকমল, রফিকুল ও রবিউল উল্লেখযোগ্য। এরা সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সাথে জড়িত এবং এরদের বাড়ি জামালপুর গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, জনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারের সাথে জড়িত। তিনি ভারতে পালিয়েও ছিলেন অনেকদিন। গত বছর জনির নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় মোহন নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ওই মামলার তিনি প্রধান আসামি। সীমান্তে নানা অপরাধের সাথেও জড়িত ছিলেন জনি।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, স্থানীয়ভাবে জনির বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় জনি নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ মুহুর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব না। সেখানে আমাদের টিম কাজ করছে। তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনে আওতায় আনা হবে।
