দৌলতপুরে রসুনের বাম্পার ফলন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে রসুনের বাম্পার ফলন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৪, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের অঙ্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৮৯৫ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। এছাড়া বাকি নয়টি ইউনিয়নেও কমবেশি রসুনের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকেরা খেত থেকে রসুন তোলা, শুকানো এবং বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকায় রসুনের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি প্রাগপুর ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাষ হয়েছে। চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার ও সেচ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড়ে ৪৫ থেকে ৬০ মণ রসুন উৎপাদন হলেও বর্তমানে বাজারে প্রতি মণের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। মহিষকুন্ডি পাকুড়িয়া গ্রামের চাষি শামিম হোসেন বলেন, এবার আমার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও দামটা আরেকটু বেশি হলে লাভবান হতে পারতাম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই এলাকার চাষি মশিউর রহমান জানান, প্রতি বিঘায় উৎপাদনের চেয়ে খরচই বেশি হয়ে যাচ্ছে। দাম যদি একটু বাড়তি পাওয়া যেত, তবেই পরিশ্রম সার্থক হতো। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়লেও রসুনের বাজারদর সে তুলনায় বাড়েনি। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রসুনের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকদের সঠিক বাজারদর ও রসুন সংরক্ষণের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।