দৌলতপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে প্রকাশ্য  দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদরঘাট নামক স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারীর ও তৎপরতার  অভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী এলাকাবাসীর।

গতকাল রবিবার ( ১৪ জুলাই) বিকাল অনুমানিক ৫ টার পরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মুক্তার কবিরাজ বলেন, আমি একজন নৌকার মাঝি আমার নৌকা ভাড়া করে ৪ জন কিশোর। পরে তারা ৮ থেকে ১০ জন নৌকায়  উঠতে গেলে, আমার ছেলে হুচাইন হোসেন বাঁধা প্রদান করলে তাদের সাথে হাতাহাতি হয়।

পরে তারা চলে যায়। কিছু সময় পরে আব্দুল মান্নানের ছেলে রনি,  হানিফের ছেলে স্বজল সহ ৮ থেকে ১০ জন আসে,  যাদের সকলের হাতে ব্যাগ ছিল। তারা আবার এসে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে  দাড়িয়ে স্বজল অস্ত্র প্রদর্শন করে ২ রাউন্ড গুলি করে চলে যায়।

আবেদের ঘাটেরর লেবার নাহারুল ইসলাম বলেন, আমার পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলি করে চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যক্তি বলেন, আগের ওসি রফিকুল ইসলাম থাকা কালীন সময়ে আমাদের ফিলিপনগর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো ছিলো নতুন ওসি যোগাদানের পর থেকে আমাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা  পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে।

গতকাল প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া হলো সাথে গুলি তাদের হাতে ৪ টি অস্ত্র ছিল । এর আগে স্বজল ও তার পিতা হানিফ পুলিশকে মেরে হাতকড়া নিয়ে পালিয়েছিল। আমরা সকল অস্ত্র ধারীকে আইনের আওতায় দেখতে চাই। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, এলাকাবাসী খবর দিয়েছেন, খবর পেয়ে আমি এসেছি, তবে কউ বলতে পারেনা, সকলে বলছে শব্দ শুনেছি তবে কিসের শব্দ তা বলতে পারছেনা। তবে অস্ত্রে মহড়া হলে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে ঘাটে আধিপত্য বিস্তার করতেই, আতঙ্ক সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করতেই সাজানো নাটকের বিনিময়ে গুলি করেছে শাদীপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।

প্রসঙ্গত, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটটি স্থানীয়দের পারাপারে সম্প্রতি টোল ফ্রী করার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী। মাঝিদের জীবিকা নির্বাহ, নৌকা মালিকের ব্যবসা আর যাত্রীদের পারাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় ভাবে দেখভালেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে, এরই মধ্যে ঘটে গেলো এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

নদী তীরবর্তী এলাকার সুপরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা ওরফে ওরুশ কবিরাজ বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের মহৎ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্থ করতে, এবং ঘাটে চাঁদাবাজি করার জন্য সন্ত্রাসীরা ছোট্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি পর্যন্ত করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নেয়া দরকার।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, যদি কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে থাকে কোনো ছাড় হবে না। শব্দ হওয়ার কথা আমরাও শুনেছি স্থানীয়দের কাছে।

উল্লেখ্য, সিলভার রঙের চকচকে একটি ছোট সাইজের পিস্তল দিয়ে গুলি করতে দেখেছে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক  প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই। এসময় ওই এলাকায় প্রাণ ভয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে মানুষ।