দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার হত্যা মামলার প্রধান ও হুকুমের আসামি মোহাম্মদ খাজা আহমেদসহ দুইজনকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আদালত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ খাজা আহমেদ এবং দৌলতপুর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান। বর্তমানে মামলাটি কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টের ২০ নম্বর আদালতের দৈনিক কার্যতালিকায় আগাম জামিনের আবেদনটি ১৮ নম্বর ক্রমিকে তালিকাভুক্ত ছিল।
শুনানি শেষে আদালত আবেদন নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে কুষ্টিয়া দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ হাইকোর্টের এ আদেশ মানতে বাধ্য থাকবেন। আদেশ অমান্য করলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দারের দরবার শরীফে বিক্ষুব্ধ জনতা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে পীর শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তিনদিন পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় খাজা আহমেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, উসকানি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি খাজা আহমেদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নামীয় আসামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন, আলমগীর হোসেন (১৬), বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং রাজীব মিস্ত্রি (৪৫) (নামীয় আসামী)। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার এড়াতে খাজা আহমেদ ও আসাদুজ্জামান উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। এদিকে খাজা আহমেদের জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের মক্কেলদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এদিকে, আসামিদের জামিন ও এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দৌলতপুরসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমান।
