বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ও রাজশাহী বাঘা উপজেলা সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর ‘ডেঞ্জার জোন’ এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী একটি চক্র। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, নদী ভাঙ্গন রোধ করতে বিআইডব্লিউটিএ, হাইকোর্ট ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কুষ্টিয়া ও রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ ও হাইকোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চক্র সিন্ডিকেট করে দিনের পর দিন পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষকে জিম্মি করে দিনে-ভোররাত হতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।
এতে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন তীরবর্তী প্রায় ২ টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমির ফসল ও আবাদি জমি। বসতবাাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ! হুমকিতে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের মানুষের বসবাসযোগ্য রক্ষা ব্লক বাঁধ। তবে স্থানীয়রা বলেন, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করারও উপায় নেই। কথা বললেই বন্দুকের মুখে পড়তে হয়! স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে চৌদ্দহাজার মৌজাতে বালু তোলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন-পদ্মার দুইপারের সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালীরা! ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি চৌদ্দহাজার মৌজায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর আশ্রয়স্থল নিশ্চিহ্ন করা হোক, আর সে মোতাবেক আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হোক।
তবে পদ্মার সীমান্তবর্তী রাজশাহী বাঘা উপজেলা ও কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে এই চক্রটি প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে। এতে যেকেনো সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যাবহারে প্রানহানি হতেপারে! খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত-দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়ন এরিয়ার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী বাহিনীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় কয়েকটি বাহিনী (গ্রুপ) হয়ে অবস্থান করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থানে।
পদ্মার সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ও রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার একাধিক হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, দস্যুতা, ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামীরা বর্তমান আশ্রয় স্থান গড়েছে এই অবৈধভাবে চৌদ্দহাজার বালু উত্তোলনকৃত স্থানে। ইতিপূর্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও চরদখলকে কেন্দ্রকরে বাহিনীদের মধ্যে অভ্যান্তরীন কোন্দলের জেরে প্রথম দফায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো, এর কিছুদিন পর দ্বিতীয় দফায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছিলো।
এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিলেন খুলনা ও রাজশাহী রেন্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে যৌথ অভিযানের পর কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও সন্ত্রাসী বাহিনীরা পুনরায় আস্তানা গেড়েছেন চৌদ্দহাজার মৌজার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থানে। তবুও থেমে নেই নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন! তবে অনুসন্ধানে আসে, নদীপথের বালুদস্যু, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী বাহিনীদের আশ্রয়স্থল কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা ইউনিয়ন সহ রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার সন্ত্রাসী বাহিনীদের, আর এই সন্ত্রাসী বাহিনীদের নগদ কাচা টাকা ইনকামের বড় অংশ এই দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার বালুঘাট। এখান থেকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল তৈরি করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বর্ডার থেকে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করে মজুদ করছে সন্ত্রাসী বাহিনীর “টুকু ও গিট্টু সোহাগ” বাহিনীর শ্যুটার রাসেল, শ্যুটার লালন, শ্যুটার রেন্টুগিট্টু, শ্যুটার রওশন গংরা।
সাথে প্রয়াত লালচাঁদ বাহিনীর সন্ত্রাসী সুকচাঁন, সুকচাঁদের ছেলে বিপ্লব ও বিমল সহ তাদের গংরা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী শীর্ষ প্রয়াত সন্ত্রাসী লালচাঁদ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড নাহারুলের ছেলে মামুন গংরা। এছাড়াও রয়েছে ওপেন সিক্রেট আরো আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি সন্ত্রাসী বাহিনী। অপরিকল্পিত এ বালু উত্তোলনে বদলে যাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রকৃতি। ভেঙ্গে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি। বিআইডব্লিউটিএ ও হাইকোর্টের উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলা প্রশাসন বালি তোলাকে অবৈধ বললেও নৌ পুলিশ নীরব ভূমিকাতে। বালু মহাল আইনের পদক্ষেপ জরুরী বলে মনে করে স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি আবারও মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজায় প্রায়াত, জমিদার আব্দুল আজিজ মাষ্টারের শত শত বিঘা জমি সহ চরাঞ্চলের জনগনের জমিতে-মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে ড্রেজার, বলগেট ও বালিবাহী নৌকা দিয়ে মোটা বালু উত্তোলন শুরু করেছে রাজশাহীর “মেসার্স সরকার ট্রেডার্স” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত প্রতিনিধিরা, আর সেই নিযুক্ত প্রতিনিধিরা রাজশাহী প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা প্রশাসককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলে, ”ইজারাকৃত এরিয়ার মধ্যে বালু উত্তোলন হচ্ছে, কিন্তু সরেজমিনে চৌদ্দহাজার মৌজা ম্যাপ, গুগল ম্যাপ, সার্ভে তথ্য পুরোটাই মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছে বালু উত্তোলনকারীরা”।
এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসককেও বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বলেছে,”রাজশাহীর ইজারাদাররা তাদের ইজারামতেই বালু উত্তোলন করছে,তবে সরেজমিনে পুরোটাই দৌলতপুর উপজেলাধীন ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পদ্মার চরে চৌদ্দহাজার মৌজা ম্যাপ, গুগল ম্যাপ, সার্ভে তথ্য পুরোটাই দৌলতপুরের মধ্যে”। উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পূর্বের ন্যয় আবারো এই চৌদ্দহাজার মৌজাতে প্রাননাশের ঘটনা ঘটবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। তবে “মেসার্স সরকার ট্রেডার্স”-এর নামে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজায় ২৪ একর আয়তনের একটি বৈধ বালুমহাল ইজারা থাকলেও উত্তোলন করার মত নেই কোনো বালু স্পট, তারা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পদ্মার চরাঞ্চলে এসে বালু উত্তোলন করছে,যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তবে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার জমি মালিক ও “ফিলিপনগর এবং মরিচা ইউনিয়নের জনগনের প্রানের দাবি-মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন বন্ধে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সহ কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল দপ্তরের সহযোগিতা চেয়ে” সেই নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনীদের আশ্রয় স্থল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে সন্ত্রাসী বাহিনীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন” অন্যথায় ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের শত কোটি টাকার রক্ষা বাঁধ রক্ষার্থে কুষ্টিয়া জেলা ও দৌলতপুর উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন সহ নানান কর্মসূচির ডাক দিবে। উল্লেখিত বিষয়ে “মেসার্স সরকার ট্রেডার্স” এর স্বত্বাধিকারী এস,এম,এখলাস আহমেদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি।তবে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বলেছেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক দপ্তর কর্তৃক প্রাপ্ত বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজাতে ইজারা নিয়েছে, যদি ইজারাপ্রাপ্ত এরিয়ার বাইরে, কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে বালু উত্তোলন করে, সেটা অবশ্যই অবশ্যই আইন বহির্ভূত, বিষয়টি আমি ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
