দৌলতপুরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৫, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারের সরবরাহকৃত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মেসিতেও মিলছে না প্রয়োজনীয় এই টিকা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসলেও ভ্যাকসিনের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন খুঁজলেও সেখানেও সংকটের কারণে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ভ্যাকসিন বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ভ্যাকসিন না পাওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। ফলে সময়মতো ভ্যাকসিন না পাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্সেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর দৌলতপুর উপজেলা এরিয়া ম্যানেজার ইব্রাহিম হোসেন  জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় বর্তমানে সারাদেশেই র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, দৌলতপুর উপজেলায় মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ভায়াল ভ্যাকসিনের চাহিদা থাকে।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হুসাইন আহমেদ বলেন, “আমার স্ত্রীকে বিড়ালে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করেছি, কোথাও পাইনি। পরে এক মাধ্যমে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তিনটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছে।” আরেক ভুক্তভোগী টুম্পা খাতুন বলেন, “আমার মাকে বিড়ালে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে গেলে ভ্যাকসিন পাইনি। পরে ফার্মেসিতেও খুঁজেছি, সেখানেও পাওয়া যায়নি। ভ্যাকসিন না পাওয়ায় আমরা খুব আতঙ্কে আছি।” দৌলতপুর ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি আজমল হোসেন জানান, বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কম থাকায় এবং এই মৌসুমে মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে কুকুর ও বিড়ালের প্রজনন মৌসুমে কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে।

এ সময় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই সরকারি ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেয়। তিন মাস পর ৩০০ ভায়াল ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। একজন রোগীর জন্য ৪ থেকে ৫টি ভায়াল প্রয়োজন হয়। সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “র‌্যাবিসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই এই সংকট সত্যিই উদ্বেগজনক।” এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, “ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি আমাদের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।