দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় র‌্যাবের অভিযান: কারখানা সিলগালা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় র‌্যাবের অভিযান: কারখানা সিলগালা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১০, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গড়বাড়ী গ্রামে র‌্যাব ও কাস্টমসের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট, ব্যান্ডরোল ও সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম সহ গোডাউন জব্দ করা হয়েছে।সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (৭ মে) দিবাগত গভীর রাত প্রায় ৩ টা থেকে দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়বাড়ী গ্রামে রাতভর উক্ত এলাকার হাবীব মাষ্টারের গরুর ফার্মে গোডাউন ফ্যাক্টরীতে এ অভিযান পরিচালনা হয়।

অভিযানে কুষ্টিয়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন র‌্যাব-১২ এর সিপিসি-১ এর সদস্যরা।অভিযানকালে দেশীয় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট, অবৈধ ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির ৬টি মেশিন, প্রায় ১ লাখ শলাকা ডার্বি ও স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট, একটি পিকআপ (কাভার্ডভ্যান), ১৪০ কেজি প্রক্রিয়াজাত তামাক, ২৪ হাজার সিগারেট ফিল্টার, একটি মোটরসাইকেল ও একটি বক্সভ্যান জব্দ করা হয়,জব্দকৃত সর্বসাকুল্যে বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলাসহ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন অবৈধ সিগারেট কারখানার বিস্তার ঘটছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা সিন্ডিকেট করেই উক্ত অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরীর প্রসার হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, প্রায় দেড় মাস আগে শাকিল নামের এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় গোডাউনটি ভাড়া দেন তিনি। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল, এমন বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, আমি একজন স্কুলশিক্ষক। স্কুলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই দিকে খুব একটা যাওয়া হয় না।

অন্যদিকে, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। র‌্যাব-১২ জানিয়েছে, জব্দকৃত মালামাল ও কারখানাটি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

যা সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পরিচালিত এসব কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় জড়িত সিন্ডিকেট সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে উক্ত বিষয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি। এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।