নিজ সংবাদ ॥ পাইকারিতে সবজির দর ঠেকেছে তলানিতে। এক কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র পাঁচ টাকায়। মাথায় হাত কৃষকের, উঠছে না উৎপাদন খরচ। কুষ্টিয়ার অন্যতম বড় সবজির মোকাম খলিসাকুন্ডি কাঁচাবাজারের আড়ৎ। এ পাইকারি বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকা কেজিতে পালন শাক বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সব ধরনের সবজির দাম। এতে লাভের আশায় শীতকালীন সবজির চাষ করে এখন বিপাকে কৃষক। মূলত উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসায় দাম একেবারে পড়ে গেছে। আবাদের খরচ না উঠলেও বাধ্য হয়ে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। তারা বলেন, সবজির পাইকারি বাজারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে দাম। ফুলকপি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা ও মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা কেজি। এছাড়াও বাঁধাকপি, মিষ্টি লাউ, সিম ও বেগুনসহ সব রকমের শীতকালীন সবজি ১০ থেকে ২০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খলিসাকুন্ডি পাইকারি বাজারে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা মন।
ফুলকপি বিক্রি করতে আসা কৃষক জমাল বলেন, বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে তাদেরই খাওয়াতাম। উৎপাদন খরচ বাদ দিলাম, মাঠ থেকে হাট পর্যন্ত নিয়ে আসতে কেজি প্রতি যে খরচ সেই টাকাও আমরা পাচ্ছি না। ফুলকপির মতো সবজি মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা কেজিতে কখনো বিক্রি হতে পারে? আরেক কৃষক আসমত আলী বলেন, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে ফুলকপি চাষ করে। কৃষকদের জ্বালা কেউ বোঝে না। কাউকে বলতেও পারছি না সহ্যও করতে পারছি ন। আর ব্যাপারীরা বলছেন, লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদেরও। পাইকারি বাজারে গড়ে সবজির দাম ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। যেখানে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি ও মুলা ও পিঁয়াজের কলি। দৌলতপুরের মৌবাড়ি থেকে আসা এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসাতে ধস নেমেছে। কেজি প্রতি আগে ভালো লাভ থাকলেও এখন গায়ে গায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোনো লাভই থাকছে না। তবে খলিশাকুন্ডি পাইকারি বাজারে মুলা ৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও পাশের খুচরা বাজারে হাত বদলেই তা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কেজিতে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, এই উপজেলায় এবার কপির চাষ বেশি হয়েছে। ফলে বাজারে ফুল কপির সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা কম। আর ক্রেতা কম থাকায় বাজারে সবজিটির দাম পড়ে গেছে।
