দৌলতপুরের কাউসারকে মানসিক রোগী বলছে পরিবার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরের কাউসারকে মানসিক রোগী বলছে পরিবার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ রাজধানীর বারিধারায় কূটনৈতিকপাড়ায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে পুলিশের কনস্টেবল মনিরুল হককে গুলি করে হত্যা করেছেন তারই সহকর্মী কাওছার আলী। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে কাউসারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, চাকরিরত অবস্থায় প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সরকারিভাবে হাসপাতালে গিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসাও নিয়েছেন।

কাওছার আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী দাড়ের পাড়া এলাকায়। আজ রোববার দুপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কম কথা বলতেন। গেল কয়েক দিনও কম যোগাযোগ করেছেন।

বেলা আড়াইটার দিকে সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যায়নি। বাড়ির ভেতরে মা ও স্ত্রী বসেছিলেন ও তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াত আলীর মাস্টার অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছেন। কাউসারের দুই ছেলে সন্তানও ছিল বাড়িতে। তারা দুজন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম ও অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

কাওসারের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন স্বামীর বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

নিলুফার ভাষ্য, তাঁর স্বামীর ঘটনার বিষয়ে গত শনিবার রাত তিনটার দিকে জানতে পারেন। ঢাকা থেকে আমজাদ হোসেন নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে বিষয়টি তাঁকে জানান। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাঁর শ্বশুর হায়াত আলীকে জানাননি। তাঁর শ্বশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বয়স ৮০ বছর। ছেলের এ ঘটনা জানলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এ জন্য তাঁকে জানানো হয়নি। তবে শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে জানিয়েছেন নিলুফা।

২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি তিনি বিয়ে করেন। সংসারে কোনো ঝামেলা বা কলহ নেই বলে জানালেন স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, গত শনিবার রাত আটটার দিকে সর্বশেষ কাওসার তাঁর মা-বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল বিকেলের দিকে। সে সময় কাওসার বলেছিলেন, ঈদের ছুটি নেওয়ার জন্য ৪ তারিখ আবেদন করেছেন। এবার ঈদে বাড়িতে আসবেন। নিলুফা বললেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। কাওসারের কাছে প্রেসক্রিপশনও আছে।

তবে কাওসার গুলি করে সহকর্মীকে হত্যা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী। নিলুফা বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বস হচ্ছে না যে গুলি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন। কীভাবে কী হয়েছে, সেটা বুঝতেছি না।

কথার একপর্যায়ে নিলুফা জানালেন, কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সংসারে কোনো অভাব-অনটন ছিল না। তবে চাকরি নিয়ে খুবই টেনশন করেন তিনি। ছয় ঘণ্টার ডিউটি আট ঘণ্টা হতো। এ ছাড়া নানা বিষয় নিয়ে তিনি (কাওসার) টেনশন করতেন। এ ছাড়া তেমন কিছু জানা নেই।

কাউসারের বিষয়ে জানতে তাঁর মা মাবিয়া খাতুনের বলেন, ‘আমারা ছেলে এমনিতে খুব ভালো। তার মাথার সমস্যা আছে। সে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অসুস্থ হয়। তার সঙ্গে আমার গতকাল শনিবার রাত ৮টার শেষ কথা হয়। আমার সঙ্গে ভালোভাবেই কথা বলেছে। মা কেমন আছ, আব্বা কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। তবে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে একটু কম কথা বলত আমার ছেলে।

কাওছার মাদকাসক্ত কিনা জানতে চাইলে তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন সাথি বলেন, তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত; মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। মাদকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। চার-পাঁচ দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে কম কথা বলতেন।

কাউসারের বিষয় জানতে চাইলে তাঁর প্রতিবেশী দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কাওছার চাকরিতে যোগদানের বছর পর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা করানোর পরে সুস্থ হলে আবার চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।