বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র ও মাদক কারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। যার ফলে যে কোনে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। আর এসবের মূলে রয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং নিত্যনতুন মাদক আমদানিকারী লিয়াকত। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মরিচা ইউনিয়নের কারিতলা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী এই চক্রের মূল হোতা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে প্রায় ডজনের বেশি মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ইতিপূর্বে লিয়াকতের অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট কিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। জানা যায়, লিয়াকত আলীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশেষ করে কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে নিয়মিত যাতায়াত করে। এসব যাতায়াতের আড়ালে মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার পরিচালিত হচ্ছে বলেও একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভারত সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র ও গুলি আনার অভিযোগও উঠেছে লিয়াকতের বিরুদ্ধে।
সূত্রমতে, ঐসব অস্ত্র ও গুলি কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহ করা হয় বলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মা নদী সংলগ্ন চরাঞ্চলের কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গেও এই চক্রের সখ্যতা রয়েছে। সেই সাথে পদ্মার চরের শীর্ষ অস্ত্র ও মাদক কারবারী মন্ডল বাহিনী প্রধান বেলাল মন্ডলের সাথে তার সক্ষতা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জীবন হারানোর ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রশাসনের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় লিয়াকতের ভাই শওকতের একটি গরুর খামার রয়েছে। আর সেই গুরুর খামারের আড়ালে শওকত লিয়াকতের মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে।
যার ফলে এলাকায় অতিমাত্রায় মাদক ও অস্ত্রের প্রবাহ বেড়েছে। এতে যুবসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে সব সময় আতঙ্কিত থাকে এলাকার জনসাধারণ। লিয়াকতের সক্রিয় গ্যাং থাকার কারণে এসব নিয়ে মুখ খোলার সাহস দেখান না কেউ। লিয়াকতের গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকার আবজাল সরদারের ছেলে তছিকুল (৩২), হাফেজ চৌকিদারের ছেলে রবিউল (২৯), খেজের আলী সরদারের ছেলে আজিবর (৩৩), মৃত শেকসাদ সরদার (সাবেক মেম্বার)’র ছেলে রাসেল (২৯), মৃত গুলবার সরদারের ছেলে সিরাজুল (৫০), মৃত ইমান আলী সরদারের ছেলে শওকত (৪৫), মেরু প্রামানিকের ছেলে সবুজ (২৬) জিয়ার ছেলে জিহাদ (২৩), মৃত ছপিল বিশ্বাসের ছেলে জিয়া (৪২) এবং দাউদ প্রামাণিকের ছেলে সাইফুল (৪৭) অন্যতম।
এছাড়া লিয়াকতের বড় বড় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের চালান আমদানি করে, রাসেল, আজিবর, তছিকুল এবং জিহাদ সহ আরো কয়েকজন। গত ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট সরকার পতনের পর এলাকায় লিয়াকতের প্রভাব আরো বাড়তে থাকে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে লিয়াকত তাঁর বাড়ির সামনে লোক দেখানো গরু ফার্মের আড়ালে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার জোরদার করে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি রবিবার রাতে লিয়াকতের বাড়ীতে সেনাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয়ে যৌথ অভিযান করে। সে সময় তার স্ত্রী ও ছেলে লিংকনকে মাদক বিক্রির ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও ১ হাজার পিছ ইয়াবা সহ আটক করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “আমি বিএনপির রাজনীতি করি। একসময় কিছু ভুল ছিল। তবে এখন প্রশাসনের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকেই জেনে নিন।
