দেশে দুর্নীতি আর খাদ্য পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দেশে দুর্নীতি আর খাদ্য পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ দেশে দুর্নীতি আর খাদ্য পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি অতি সাধারণ ঘটনা।  সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা,কর্মচারী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে অনিহা ও অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষাই থাকে।

তারপরও অভিযোগ পেলে যে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিষয়টি এমনটিও নয়।দেশে মাঝে মধ্যেই নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আমাদের এক ধরনের অভ্যস্ততা আছে। 

কোনো কিছুর প্রতিকার করা না গেলে অভ্যস্ত হওয়া ছাড়া আর উপায়ইবা কী? প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ দাম বৃদ্ধির একটি প্যাটার্ন আছে। হঠাৎ করে দাম বাড়তে শুরু করে অনেক উঁচুতে উঠে যাবে সেই দাম। সেই মূল্যে থাকবে বেশ কিছুদিন, তারপর কমে আসবে খানিকটা, যদিও আর কখনো যাবে না আগের জায়গায়।জিনিসপত্রের দাম যে বাড়েই সবসময় তা নয়, কমেও এবং মাঝেমধ্যে মূল্যহীনও হয়ে যায়। নিয়মের বিপরীতে এ দেশে বাজারে কারসাজি হবেই।

শুধু পণ্যটাই পালটে যায় কখনো চাল, কখনো পেঁয়াজ, চিনি, তেল আবার ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ ও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ খাওয়ার স্মৃতি এ দেশের মানুষের মনে এখনো তরতাজা।

প্রতিবার প্রতিটি জিনিসের যখন দাম বাড়ে, তখন সেগুলো নিয়ে নানা আলোচনা হয়। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কাজ করা মানুষ এবং রাজনীতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সংকট নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা করেন।

টিভির টকশোগুলোতে অনেক আলোচনা হয়, পত্রিকায় কলাম লেখা হয়। এ যাবতীয় আলোচনায় একজন সচেতন নাগরিক মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই জানেন, কেন দ্রব্যমূল অযৌক্তিকভাবে-অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি পায়।যেহেতু দায়ী কারণগুলো মোটা দাগে সবাই নিশ্চিত করতে পারেন, তাই সেগুলোর সমাধানেও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সেই পথও বাতলে দিতে পারেন খুব সহজেই।

মানে প্রতিটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কারসাজি রোধে অগ্রিম কোন কোন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং সেই কারসাজি যখন শুরু হয়, তখন কোন কোন ব্যবস্থা নিলে সেটি রোধ করা যায় সেগুলো আমাদের অজানা নয়।

এ কারণেই এ কলামে সে কারণগুলোর পুনরুল্লেখ করতে যাচ্ছি না। তাহলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এ দেশের মাটিতে কিছুদিন পরপরই কোনো না কোনো পণ্য নিয়ে কারসাজি হয়? কেন সরকারকে আমরা দেখি না কারসাজি প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নিতে? দুর্নীতির তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১০ম।

২০২২ সালে অবস্থানে ছিল ১২তম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণাসূচক-২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সিপিআই সূচকে দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে ০ থেকে ১০০-এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়।

‘০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বলে ধারণা করা হয়। টিআই বলেছে, এবার বাংলাদেশ স্কোর ২৪, যা গতবারের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম।সিপিআই সূচকের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

অর্থাৎ স্কোর ও অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশ আবারো নিচের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ২০১২ থেকে ব্যবহৃত-১০০ স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৮” এর মধ্যে আবর্তিত ছিলো।আইনের প্রয়োগ ও কাঠামোগত দুর্বলতায় বাংলাদেশের আরও অবনতি হয়েছে।