বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ গেট থেকে জেলা বিএনপি এক বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের করে। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড় অতিক্রম করে কালেক্টরেট চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিজয় র্যালিতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা বহন করেন নেতাকর্মীরা। এতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও জেলা বিএনপি সদস্য সচিব, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ধানের শীষের কান্ডারি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এর নেতৃত্বে দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়।
পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। এসময় কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভয় মুক্ত পরিবেশে আমরা মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে পারছি। এটা আমাদের জাতির ইতিহাসে সেরা অর্জন, এটা কারো অর্পন করা না, কারো দয়ার দান করাও না। এটা আমরা অর্জন করেছি পূর্বসূরীদের রক্ত, শ্রম, আমাদের দেশবাসীর অক্লান্ত ত্যাগের বিনিময়ে, ৩০ লাখ শহীদদের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো।
যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড পেয়েছি, তাদের স্মরনে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির কয়েকদিনের কর্মসূচি রয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বরের এই চেতনা ও শক্তি নিয়ে, আগামীতে গনতন্ত্র, নির্বাচন যা কিছুর সামনে এজেন্টা আছে, সব কিছু এই চেতনা। এখান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে আগামী দিনের পথ চলা সুগম ইনশাআল্লাহ। কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশ পেয়েছি। ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জিত হয়েছে, তাদের স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে ফুসকা ওয়ালা, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিষয় দেখে আজ আমরা জেলা বিএনপি ব্যাথিত। আমরা মনে করি এ স্থানটি সংরক্ষণে প্রশাসন ব্যার্থ। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি রেখে বলতে চাই, শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরটি সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া, প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায়, বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফার কথা তুলে ধরেন। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার আরো বলেন, যাদের আত্মত্যাগে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস অর্জিত হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, একটা দল পরিকল্পিতভাবে এই দেশটাকে তারা অস্থিতিশীল করে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনটাকে পিছিয়ে দিতে চাই। তারা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে বিভিন্ন বাহানা শুরু করেছিলো। প্রথমে তারা সংস্কারের কথা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা, পিআর পদ্ধতি, গনভোটের কথা বলে নির্বাচনটাকে তারা পিছিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলো। যখন কোন কিছুই আর টিকলো না, নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করলো, তখন তারা কোন পথ না পেয়ে, এ ধরনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই এবং প্রোগারন্তরে তারা এই দেশটাকে পিছিয়ে দিতে চাই। আমরা মনে করি এ ধরনের অপতৎপরতা অচিরেই বন্ধ করা উচিৎ। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং একটা সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচনে ভালোভাবে অংশ নেওয়া।
