বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী ছিলেন, যিনি ছয়বার কারাবরণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সব চেয়ে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, নিপীড়িত সরকার প্রধান ছিলেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপি ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৭১ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে শসস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত, ঠিক সে সময় উনার দুটি সন্তান নিয়ে বেগম জিয়া পাক বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন। বেগম জিয়া ২য় বার কারাবরণ করলেন স্বৈরাচারী এরশাদের আমলে রাজপথে আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালে। স্বৈরাচারী এরশাদ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনবার কারাবন্দী করেছিলো। এরপরও স্বৈরাচার এরশাদ পারপাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে যে আন্দোলন হয়েছিলো, সেই আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী খুনি এরশাদ গদি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো।
এ জন্য এদেশের মানুষ বেগম জিয়াকে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে উপাধি দিয়েছিলো। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যের স্বার্থে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উনার কৃতিত্বে যে আন্দোলন হয়েছিলো এবং সরকার পতনের পরেও ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে, আবার অনেকে বলে পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে সুন্দর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিলো, সেই নির্বাচনে এদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।
বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন, তারই ফলে এ দেশের মানুষ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দিয়েছিলেন। আগামী দিনে এই দেশনেত্রীর মর্যাদা রক্ষার্থে সকলে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি এক হয়ে কাজ করলে আমাদের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি জনমানুষের দল, আপনারা দেখেছেন বেগম জিয়ার মৃত্যুতে পৃথিবীর মানুষ কেদেছে। তার নামাজে জানাযায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলো। এটা সব থেকে বড় সম্মান।
তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উনার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। এর ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীর বুকে সম্মানিত করেছেন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তিনি। আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাতবাসী করেন। গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ আসর সদর উপজেলার বটতৈল বাইপাস মোড় সংলগ্ন ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সন্মানিত অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এর সহধর্মিণী লিনা জাকির।
সদর উপজেলার আয়োজনে দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব ও উপস্থাপনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। এছাড়া শহরের আবাসন এলাকায় দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমউল হাসান অপু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন। সদর উপজেলা বিএনপির দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য শহিদুজ্জামান খোকন ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, সদর উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মুন্সি নজরুল ইসলাম ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু,
সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মাজেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ইবি ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা আফ্রিদী শিল্পী, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নাজনীন আক্তার, সাধারন সম্পাদক রেখা পারভীন, সদর উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী অধ্যাপক জেবুন নাহার পিয়া। বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান আলী হান্নান মেম্বর, সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আনিছ, সাবেক সার্চ কমিটির সদস্য আশরাফ হোসেন নয়ন, গোলাম মোস্তফা, জেলা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জামিরুল ইসলাম জামিরসহ ১৩ টি ইউনিয়ন থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
