নিজ সংবাদ ॥ বয়স ৩৫ বছর। দুই সন্তানের জনক। নবগঠিত দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে সোহেল রানা নামে এই ব্যক্তিকে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের ২ নং সহ-সভাপতির পদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোহেল রানা দৌলতপুর উপজেলার জয়রাম পুর গ্রামের মৃত খাইরুল ইসলামের ছেলে। আওয়ামীলীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠন দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সোহেল রানাকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩০এপ্রিল আমানুল হক আমানকে সভাপতি ও বিপ্লব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেই কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের জন্য সময়, শ্রম ও মেধা দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, বিভিন্ন সময় মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়ে সাংগাঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন তাদের অনেককেই এই কমিটিতে রাখা হয়নি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নয় নিজেদের আখের গোঁছাতে এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ সদস্য নবগঠিত দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ২ নং সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোহেল রানাকে। কিন্তু সোহেল রানা ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম আরফিনা। আরিয়ান ও সাদিক নামে সোহেল রানার দুটি ছেলে সন্তান আছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫ এর (গ) ধারা অনুযায়ী বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের পদে থাকতে পারবে না। তারপরও সোহেল রানাকে দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোগলবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, সোহেল রানা ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। একই গ্রামের চাল, গম ভাঙ্গানোর মিলের মালিক খাদেম মিলওয়ালার মেয়ে আরফিনার সাথে সোহেল রানার বিয়ে হয়েছে। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানিয়েছেন, সোহেল রানা ২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এসএসসি পাসের সময় তার বয়স ১৫ বছর ধরলেও ২০২৪ সালে তার বয়স ৩৫ বছর হওয়ার কথা। বিষয়টি নিয়ে সোহেল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
