দক্ষ পরিচালনার অভাবে ধানের শীষের পরাজয় - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দক্ষ পরিচালনার অভাবে ধানের শীষের পরাজয়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-যুবদল নেতারা

 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ৪ ( কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার জন্য দক্ষ পরিচালনার অভাবকে দায়ী করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও যুবদলের ব্যানারে গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমারখালী হলবাজার সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলে তারা। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু প্রমূখ। আর যুবদলের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম ও ইউনুস আলী প্রমূখ। লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি কুমারখালী বাসস্টান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলনে খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলীর আনিত অভিযোগ মিথ্যা, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। মনোনয়নবঞ্চিতদের কারণে নয়, বরং অদক্ষ, অযোগ্য ও অসাংগঠনিক নেতাকর্মী দ্বারা দক্ষ নির্বাচন পরিচালনার অভাবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

নির্বাচনে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জিতেছেন জামায়াতের মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। লুৎফর রহমান বলেন, তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল থেকে মেহেদী আহমেদ রুমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সবাই প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছেন। তবে প্রার্থী দলের সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের বাদ রেখে কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আইনজীবি শাতিল মাহমুদ ও সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর দ্বারা নির্বাচন করেছেন। যাঁরা বিগত ১৭ বছর আন্দোলন – সংগ্রামে ছিলেন না।

বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে চলেছেন। ফলে বিতর্কিতদের দ্বারা ভোট পরিচালনা করায় সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। লিখিত বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহবায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন বলেন, ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। বরং যুবদলের আহবায়ক জাকারিয়া আনছার মিলনের নেতৃত্বে ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন তাঁরা। ভোটের প্রচারণা ছবি ও ভিডিও আছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক বলেন, অযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রার্থীকে ভুল তথ্য দিয়ে ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ফলে প্রার্থী দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সেজন্য ভোটে পরাজয় হয়েছে। এখন তাঁদের ব্যর্থতা ঢাকতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রার্থীসহ একাধিকবার মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। বসাবসিতে তারা আশ্বাস দিলেও ভিতরে ভিতরে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করেছেন। কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীদের বেইমানির কারণেই ধানের শীষ হেরেছে। বেইমানদের বিরুদ্ধে সাংগীতিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে।