তিন বাহিনীর আতঙ্কে ফিলিপনগর-চিলমারী ও মরিচা চরবাসী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

তিন বাহিনীর আতঙ্কে ফিলিপনগর-চিলমারী ও মরিচা চরবাসী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৫

দৌলতপুরে পদ্মার চর দখলযুদ্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, চিলমারী ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বাহিনী “টুকু ও গিট্টু সোহাগ” এবং “সুকচাঁদ বাহিনী”। এসব বাহিনীর দৌরাত্ম্যে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় জমির মালিকরা নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অস্ত্র বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুকু, গিট্টু সোহাগ ও সুকচাঁদ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শ্যুটার লালন, গিট্টু সোহাগ ওরফে সোহাগ ইসলাম, রওশন, নিজাম, সুকচাঁদ ও তার ছেলে বিপ্লবসহ নাহারুলের ছেলে মাহাবুলসহ আরও অনেকে সক্রিয় রয়েছে,

এর মধ্যে শ্যুটার লালন, গিট্টু সোহাগ গংদের সমস্ত অপকর্মের মূলহোতা এক সময়ের মাদক ও অস্ত্র আমদানীকারক ফিলিপনগর ইউনিয়নের পূর্ব ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জামাত প্রামানিকের ছেলে, আব্দুল হান্নান ওরফে হানা প্রামানিক এদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর ফিলিপনগর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে অফিসে গুলি করে হত্যা মামলায় ‘টুকু ও গিট্টু সোহাগ বাহিনীর’ সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এছাড়া, ২০২৩ সালে দৌলতপুর ইউনিয়নের চক দৌলতপুর গ্রামের মারুফ হত্যাকাণ্ডেও গিট্টু ও লালনের নাম জড়িত বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর টুকু, গিট্টু সোহাগ ও সুকচাঁদ পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তারা নিয়মিত চাঁদা দাবি করছে, জমি দখল করছে এবং অস্ত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে চরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, টুকু ও তার ভাই সাগর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চারাবটতলা এলাকা থেকে পুরো অপকর্মের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। পদ্মার চরের খড়ের মাঠ দখল নিয়ে গত কয়েকদিন আগে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চরবাসীর দিন কাটছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।

আবার কেউ ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চল হওয়ার কারণে পদ্মার চর অপরাধীদের যেন অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে টুকু, গিট্টু ও শুকচাঁদ বাহিনী উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সন্ত্রাসী বাহিনী পদ্মার চরে নিজেরা সশস্ত্র সম্রাজ্য গড়ে তুলে অপরাধ কার্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিগ্নে ও নির্ভয়ে। সচারাচার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানো সম্ভব না হওয়ায় অপরাধের অভায়রণ্য হয়ে পড়েছে চরাঞ্চল। শুধুমাত্র দৌলতপুরের পদ্মার চর নয়, এসব বাহিনী রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলার দূর্গম চরের রয়েছে তাদের বিস্তার। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করে আলোচনায় আসে টুকু বাহিনী।

বাহিনীর প্রধান তরিকুল ইসলাম ওরফে টুকু’র বাড়ি ফিলিপনগর গ্রামে। বর্তমানে টুকু বাহিনীর সদস্য প্রায় ২০ জনের মত। ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হত্যায় বাহিনী প্রধান টুকু ও গিট্টু সোহাগ বাহিনীর বেশ কয়েকজন সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে একই অপরাধে জড়িত রয়েছে তারা। ২০০৯ সালে র‌্যাবের অভিযানে চরাঞ্চলের ত্রাস ফিলিপনগর গ্রামের সন্ত্রাসী বর্তমান সুখচাঁদ বাহিনীর, সুখচাঁদের  ভাই তৎকালিন বাহিনী প্রধান লালচাঁদ নিহত হওয়ার পর তাঁর ভাই সুখচাঁদ ও নাহারুল এ বাহিনীর দায়িত্ব নেন। তবে বর্তমানে নাহারুলের ছেলে মামুনসহ ফিলিপনগর এলাকার একাধিক যুবক এ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চরের জমি দখল, বাথানের রাখাল ও মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং ডাকাতির অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এ ছাড়াও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছে শরিফ কাইগি বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী ও বাহান্ন বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে এসব বাহিনীর মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমান অস্ত্র প্রবেশের তথ্য রয়েছে। পদ্মার চরের খড়ের মাঠ দখল নিয়ে দুই বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের পর গত বৃহস্পতিবার ১২০ সদস্যের পুলিশের অভিযানিক দল সন্ত্রাসীদের ধরতে চরে অভিযান চালায়। কেউ গ্রেপ্তার না হলেও পুলিশের এমন অভিযানে চরবাসীর মাঝে স্বস্থি ফিরেছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোলাইমান হোসেন বলেন, “চরাঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর বিষয়ে পুলিশ অবগত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে, যেই হোক, সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।