বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মানুষের জীবন চক্রের ভাগ্য ঘুরবে এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে মানুষ চাইলে সবই সম্ভব তবে কাঠ মিস্ত্রি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে কুষ্টিয়া তীরমহনি বারখাদা পূর্ব পাড়া এলাকাতে । একজন কাঠমিস্ত্রি এত টাকার মালিক কিভাবে হলেন বিষয়টি নিয়ে বেশ মজার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছে ১০০ কোটি, কেউ বলছে ৫০০ কোটি আবার কেউবা বলছে হাজার কোটি। তবে তার প্রকৃত সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।
তবে এলাকাবাসী ধারণা করেন, আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছেন এই কাঠমিস্ত্রি। অথবা দূর্ণীতির মাধ্যমে অবৈধ কোন পন্থায় টাকা রোজগার করেছেন কাঠমিস্ত্রি রেজাউল করিম। সে বারখাদা পূর্বপাড়ার এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রেজাউল একজন কাঠমিস্ত্রির ছিলো। তিন বছর আগেও তার আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল। অভাব এবং ঋণের কারণে এলাকার মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনাও করেছেন। ঋণের টাকা সময় মত পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গাছের সাথে বেঁধে রাখারও বিষয়টিও জানা যায়।
তবে একজন মানুষ রাতারাতি বিপুল পরিমান টাকা ও সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন এমন তথ্য কেউ দিতে পারেনি। তার আয় এবং সম্পদের মধ্যে রয়েছে সুবিশাল ফাঁক। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিন বছরে কাঠ মিস্ত্রী রেজাউল ক্রয় করেছেন একটি চারতালা বাড়ি, একটি দুই তলা বাড়ি। এছাড়াও কুষ্টিয়া শহরের আশে পাশে আছে রজনী ট্রেডার্স, রোজা ট্রেডার্স নামে একটি আসবাব পত্র তৈরির কারখানা।
যেখানে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার আধুনকি কাঠ প্রসেসিংয়ের বিদেশী মেশিন ও সরঞ্জাম। এছাড়াও তার কারখানায় সব সময় মজুদ কয়েক কোটি টাকার দামী দামী কাঠ। অনুসন্ধান কালে আরও জানা যায়, কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা মহাসড়কের ৮ মাইল নামক স্থানে রাস্তার পাশে তার রয়েছে দুই বিঘা জমি। বর্তমান বাজার দরে যার প্রতি কাঠার মূল্য ৬ লক্ষ টাকা বেশী। এছাড়াও গুঞ্জন রয়েছে, দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) তার রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। যার মধ্যে একটি বিলাস বহুল বাড়ী, ৬-৭টা দোকান এবং গাড়ী। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পেশায় কাঠ মিস্ত্রী হলেও রেজাউল অনেকটা ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ। সেই কারণে যে কোন পরিবেশে নিজেকে সহজেই মিশে যেতে পারতেন।
এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন উঠুক সেটা তিনি মোটেই চাইতেন না। যার ফলে আওয়ামী লীগের নেতা থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের সাথে গড়ে তুলেছিলেন বিশেষ সক্ষতা। এছাড়াও বাংলাদেশের অনেক নামী দামি মানুষের সাথে ছিলো তার চলাফেরা। গত কয়েক মাস আগে রেজাউল এর পৃষ্টপোষকতায় ত্রিমোহনী বারখাদা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সব চেয়ে বড় টেপ টেনিস ক্রিকেটের ফাইনাল।
সেই খেলায় খরচ করেছিলেন কোটি টাকার উপরে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঢাকা থেকে এনেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুর বাশার সুমন, ইমরুল কায়েস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলম, বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার আতাহার আলিসহ জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতাদের।
এছাড়াও জানা যায় তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার বিশ^স্ত এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। আতাউর রহমান আতার মাধ্যমে তিনি জেলা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যে কোন অনুষ্ঠান এবং প্রোগ্রাম সফল করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এবিষয়ে জানতে রেজাউলের মুঠোফোন ফোন দিলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কাঠ মিন্ত্রী রেজাউলের অবৈধ আয় এবং আয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকায়।
