মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালী রেল স্টেশনের চা দোকানি তেজারত চা বিক্রির আয়েই চলতো তার সংসার। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন ও কারফিউ ঘিরে স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার কমেছে এই চা দোকানির। কুমারখালী রেল স্টেশনে প্রায় ছোট-বড় ৫০ টি দোকান রয়েছে।
প্রায় ১৬ দিন ধরে সারাদেশে বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। এতে করে সব ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে। ঠিক মতো বেচাবিক্রি না হাওয়ায় দেনা হচ্ছে প্রতিনিয়ত তারা। স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেন এখন শাটল ট্রেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে চলাচল শুরু করেছে শাটল ট্রেন পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত। আপাতত কারফিউ শিথিল থাকার সময়টাতে লোকাল ট্রেন চলাচল করবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে কুমারখালী রেল স্টেশনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শুধু মতিন ও তেজারতের আয়-রোজগার কমেনি। আয় রোজগারে টান পড়েছে স্টেশনের কুলি, হকার, ভিখারি, শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের।
গতকাল শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কুমারখালী রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ষ্টেশনে শুনশান নীরবতা। কথা হয় মুদি দোকানের মালিক মতিনের সঙ্গে । তিনি বলেন, এখানে প্রায় ৩০ বছর ব্যবসা করছি এমন অবস্থা আগে কখনো আসেনি। প্রায় ১৬ দিন যাবত দোকানে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। প্রতিদিন পূজি ভেঙে খাওয়া হচ্ছে।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হলে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। রেল ষ্টেশনের চা বিক্রেতা তেজারত এর সঙ্গে কথা হয় তিনি বলেন, রেল স্টেশনে মানুষ চলাচল নেই, তাই বেচাকেনা নেই। ট্রেন চলাচল করলে আমাদের বিক্রি হয় , ট্রেন না চললে আমার বেচাকেনা হয় না। প্রায় ১৬ দিন দোকানে বেচাবিক্রি একদম কম। আগে প্রতিদিন এক- দুই হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন সেখানে পাঁচশ টাকা বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছি।
বাড়িতে থাকলে বৌয়ের সাথে ঝগড়া হয়। সেই জন্য দোকানে এসে বসে আছি। দোকানে প্রতিদিন লস হচ্ছে । শাহীন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের আয়েই চলতো সংসার ও দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ। কিন্তু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় টান পড়েছে আয়-রোজগারে। যেহেতু আমাদের ব্যবসা ট্রেনের যাত্রীকেন্দ্রিক। তাই ট্রেন না চললে যাত্রী আসবে না। এজন্য দ্রুত ট্রেন স্বাভাবিক না হলে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে। স্থানীয়রা জানান, এই স্টেশনে প্ল্যাট ফরমে স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ৫০ টি দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলোর ব্যবসা স্টেশনকে ঘিরে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুলাই থেকে সারা দেশের মতো কুমারখালী রেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা-ভাব দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কুমারখালী রেলওয়ে হয়ে প্রতিদিন রাজশাহী-ঢাকা, পোড়াদহ-গোয়ালন্দ ও রাজশাহী -টুঙ্গিপাড়া এই ৩টি রেলপথে আন্তঃনগর, মেইল ও লোকালসহ ১৬টি ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলোতে ঘুরে ঘুরে স্থানীয় প্রায় অর্ধশত হকার তাদের মাল বিক্রি করতেন।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে তারা। হকার আব্দুল রাজ্জাক বলেন, আমি ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে দাঁতের মাজন ও টুথব্রাশ বিক্রি করতাম। এই আয়েই চলত সংসার। এখন অপেক্ষায় আছি কবে ট্রেন চালু হবে। দ্রুত ট্রেন চালু না হলে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে। কুমারখালী রেল স্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত ১৮ জুলাই থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সারা দেশে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে।
