চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৭, ২০২৩
চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ

চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। গত ২রা এপ্রিল দুপুর ১ টায় দিনাজপুর সদর থনার ভবাই নগর থেকে ২০ টন চাউল নিয়ে ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৪৯৩৩ বরিশাল গৌরনদী এলাকার টার্কি বন্দর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে ট্রাক । ট্রাকের সাথে ছিলো ড্রাইভার নূর আলম (৪৩) এব ং হেলপার লিমন (২৩)। ৩রা এপ্রিল রাত আনুমানিক ৩ টার ২০ মিনিটের সময় ট্রাকটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানাধীন দবির মোল্লা গেট অতিক্রম করে কিছুদূর যাওয়ার পর ছিনতাই কারীর কবলে পড়ে । ছিনতাই কারীরা ট্রাকটি ছিনতাই করে ঝিনাইদহ নিয়ে যায় এবং ঝিনাইদহ পৌছানোর আগে তাদেরকে চোখ বাঁধা অবস্থায় কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে ফেলে যায় বলে ট্রাকের ড্রাইভার নূর আলম জানান ।

চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ

চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ

চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই! ৪দিন নানা নাটকীয়তার পর মামলা নিয়েছে পুলিশ

সেখান থেকে উদ্ধারের পর তার উপস্থিত ব্যাক্তির নিকট থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার জন্য ৯৯৯ এ কল দিলে তাদেরকে ঝিনাইদহ থানায় গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয় । কিন্তু ড্রাইভার ও হেলপার ঝিনাইদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলেন ছিনতাই এর ঘটনা যেই থানায় ঘটেছে সেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে ।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

৩রা এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টা দিকে ড্রাইভার নূর আলম ও লিমন ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা এসে অভিযোগ জমা দিতে গেলে তাদেরকে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহসীন হোসাইন দিনভর আটকে রাখে ।

এদিকে ট্রাকের মালিক পক্ষ ড্রাইভার নূর আলম ও লিমন কোন যোগাযোগ করতে না পারার অনলাইনে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন । মালিক পক্ষ থেকে থানায় জমাকৃত সাধারণ ডায়েরী’র রিসিভ কপি আনতে গেলে জানা যায় ড্রাইভার নূর আলম ও লিমন থানায় আটক রয়েছেন ।

এর পর মালিক পক্ষ থেকে মুন্সী শাহীন আহমেদ কুমারখালী থানায় স্বশরীরে গিয়ে দেখতে পান, ট্রাকের ড্রাইভারকে কুমারখালী থানার একটি রুমে আটকে রাখা হয়েছে এবং হেলপারকে থানার ভিতর বসিয়ে রাখা হয়েছে । সেই সময় মুন্সী শাহীন আহমেদ কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহসীন হোসাইন এর নিকট ছিনতাইয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে, মোহসীন হোসাইন জানান, ট্রাকের ড্রাইভার এবং হেলপারের কথায় মিল না থাকায় তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে । আমরা এখন ঘটনা স্থল পরিদর্শনে যাবো এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করবো । আপনারাও আমাদের সাথে চলেন ।

দীর্ঘ সময় ধরে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার পর একটি ফুটেজ মালিক পক্ষকে দেখালে মালিকপক্ষ জানান আমরা ৯০ % সিউর এই ট্রাক আমাদের । অপর দিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ট্রাকের ড্রাইভার নূর আলম জানান ট্রাকটি সামনে দেখে আমাদের ট্রাক মনে হচ্ছে । কিন্তু পিছনের কালার টা যেন কেমন মনে হচ্ছে ।

কিছুক্ষণ পর মুন্সী শাহীন আহমেদ কুমারখালী থানার ওসি মোহসীন হোসাইন এর নিকট সাধারণ ডায়েরীর রিসিভ কপি চাই তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ডিউটি অফিসারের কক্ষে গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করে ড্রাইভার ও হেলপারকে থানা থেকে নিয়ে যেতে বলেন । মুন্সী শাহীন আহমেদ তাতে রাজী না হয়ে থানা থেকে চলে আসেন । এর কিছুক্ষণ পর ফোন করে জানানো হয় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ।

এদিকে ট্রাকের মালিক পক্ষ একাধিকবার কুমারখালী থানায় একাধিক বার মামলা করার চেষ্টা করলে কোন এক অদৃশ্য কারণে মামলা নিচ্ছে না কুমারখালী থানা । কোন উপায় না পেয়ে ৪ তারিখ ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার মালিক পক্ষের সহযোগিতায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলমের সাথে দেখা করে । সেই সময় পুলিশ সুপার খাইরুল আলম মামলা নেওয়ার সহ দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন । কিন্তু তার পরও দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলা করতে পারেনি ট্রাক চালক এবং মালিক পক্ষ ।

এছাড়াও ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত একাধিকবার ট্রাকের ড্রাইভার, হেলপার ও মালিক পক্ষ র‌্যাব – ১২, সিপিসি – ১, কুষ্টিয়া কর্যালয়ে যোগাযোগ করে । র‌্যাবের পক্ষ থেকে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে নিয়ে বিভিন্ন স্পটের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা হয়েছে বলে জনা গেছে ।

এদিকে ৬ এপ্রিল সকালে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার মুন্সী শাহীন আহমেদ এর সহযোগিতায় কুষ্টিয়া মজমপুর গেট এ জাহাঙ্গীর হোটেলের পাশে ফলের দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের ট্রাকটি সনাক্ত করেছে । সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ৩ এপ্রিল রাত ২ টা ৩৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে ট্রাকটি কুষ্টিয়া মজমপুরস্থ জাহাঙ্গীর হোটেল অতিক্রম করে । এছাড়াও ঐ একই ৩রা এপ্রিল রাত ২ টা ৪১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে ট্রাকটি কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহাসড়কে অবস্থিত লিরিক্স মোটর অতিক্রম ।

এই বিষয়ে ট্রাকের ড্রাইভার নূর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, র‌্যাব পরিচয়ে আমাদের ট্রাকটি ছিনতাই হয়েছে কিন্তু থানা এখন পর্যন্ত মামলা নিচ্ছে না । আমরা ঘটনার দিন অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো আমাদেরকেই প্রায় ১০ ঘন্টা কুমারখালী থানায় আটকিয়ে রাখা হয় । ট্রাকে ২০ টন চাউল ছিলো, যার মূল্য আনুমানিক ২৫ লক্ষ টাকা । আমরা চরম হতাশার মাঝে আছি ।

ট্রাকের মালিক পক্ষ থেকে কিন্নর দাস জানান, আমাদের চাউল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই হয়েছে, অথচ কুমারখালী থানাতে আমাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার জন্য গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি । আমি ঘটনার দিন অনলাইনে কুমারখালী থানাতে একটি সাধরণ ডায়েরী করেছিলাম, থানা থেকে সেটার রিসিভ কপি নিতে লোক পাঠালেও তা দেওয়া হয়নি । এই হলো প্রশাসনের অবস্থা ।

ছিনতাইয়ের পরের দিন কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহসীন হোসাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাকটি কুমারখালী থানা এলাকায় আসেনি । ট্রাকের ড্রাইভার এবং হেলপারকে কেন দশ ঘন্টা আটকিয়ে রাখা হয়েছিলো জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারে নাই ।জিডি’র কপি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মোহসীন হোসাইন বলেন, বঙ্গবাজারে আগুন লাগার কারণে আমাদের কোন সফটওয়্যার কাজ করতেছে না । তাই দিতে পারতেছি না ঠিকমত । এর পরেই তিনি কথা গুরিয়ে বলেন, কোন জিডি মিডি কোন কিছু পাঠাইনি । এর ভিতরে কোন একটা কিছু কাহিনী আছে ।

এর পর জিডি’র কপি কুমারখালী থানার অফিসার ইনচাজ মোহসীন হোসাইন এর ওয়াটসএ্যাপ এ পাঠালে, তিনি বলেন আমরা এটা দেখে আইনগত ব্যবস্থা নিবো ।

ছিনতাইয়ের ঘটনার ৪ দিন পর অবশেষে নানা নাটকীয়তার পর ফৌজদারী বিধান কোষের ১৫৪ ধরায় মামলা নিয়েছে কুমারখালী থানা । মামলা নং – ১৩/১১৪ ।

আরও পড়ুন: